• কড়া কমিশন, ভোটের জেরে বিঘ্নিত হতে পারে একাধিক পুর পরিষেবা
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ভোটের প্রভাবে ব্যাহত হতে পারে কলকাতার একাধিক পুর পরিষেবা। সূত্রের খবর, তিন মাসে তিন জন পুর কমিশনার বদলের ঘটনা পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকদের বেশ উদ্বেগেই ফেলেছে। ফলে নির্বাচনের সময় তাঁরাও চটজলদি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হচ্ছেন না। ভোট পর্যন্ত যতটুকু না হলে নয়, তা দিয়েই বজায় রাখতে চাইছেন কলকাতার পুর পরিষেবা (KMC)।

    জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য, নিকাশি, জঞ্জাল অপসারণ, আলো, রাস্তার মতো জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক থাকলেও এর বাইরেও বেশ কিছু পরিষেবা রয়েছে, যার জন্য নাগরিকরা পুরসভার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত আধিকারিকদের অনুমতির উপরে নির্ভরশীল, সেই সমস্ত কাজের সুরাহা হতে ভোট পার হয়ে যাবে।

    প্রাক ভোট মরশুমে পর পর তিন বার পুর কমিশনার বদল হয়েছে। ভোট ঘোষণার পরে নতুন পুর কমিশনার হয়েছেন স্মিতা পান্ডে (Smita Pandey)। এর পরেই পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকরা ঝুঁকি নিয়ে কোনও কাজ করতে চাইছেন না। পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের যুক্তি, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পর পর কমিশনার বদলির ঘটনায় প্রভাব পড়েছে পুর আধিকারিকদের মধ্যেও। কেউ যাতে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে পুর আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে না–পারেন, তার জন্য ভোট মরশুমে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে কাজ করতে চাইছেন তাঁরা। তৃণমূল–বিরোধী বিভিন্ন পুর কর্মচারী ইউনিয়নের তরফে একাধিক বার বহু আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এখন ভোটের সময়ে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি চলছে। কেউই এই পরিস্থিতিতে ইসি–র (ECI) কোপে পড়তে চান না।

    ফলে সার্বিক ভাবে পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্ডিং সংক্রান্ত বিভিন্ন শুনানি, রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা, নতুন বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সুরাহা ভোটের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জন্ম–মৃত্যু শংসাপত্র সহ বিভিন্ন সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও পুর আধিকারিকরা ধীরে চলার নীতি নিয়ে চলছেন। জরুরি পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই দিকেই নজর রাখছেন পুর আধিকারিকরা।

  • Link to this news (এই সময়)