রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারও তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। অধিকাংশ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে BJP-ও। ভোট সামনে আসতেই যুযুধান শাসক-বিরোধী শিবির। নির্বাচনের প্রচারে কেউ কাউকে একচিলতে জমিও ছেড়ে দিচ্ছেন না। ভোটের মুখে তেমনই ছবি ধরা পড়ল হাওড়ার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে।
সোমবার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় BJP-র নতুন কার্যালয় উদ্বোধন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের BJP প্রার্থী ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। গত বছর এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন প্রাক্তন খেলোয়াড় মনোজ তিওয়ারি। জিতেও ছিলেন বিপুল ভোটে। কিন্তু, এ বার সেই কেন্দ্রে বদল করেছে তৃণমূল। মনোজের বদলে এই কেন্দ্রে এ বার রুদ্রনীলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন চিকিৎসক রানা চট্টোপাধ্যায়। ভোটের আগে এ বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রুদ্রনীল।
এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে রুদ্রনীল সরব হন তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘তোলাবাজি ছাড়া তৃণমূল কিছু বোঝে না। নিজেদের জমিতে কারাখানা বানানোর আগেও তোলা নেয় তারা। হাওড়ার সব মানুষ এ কথা জানেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা থেকে অন্ধকার দূর করার জন্য BJP-কেই বেছে নিচ্ছেন শিবপুরের সাধারণ মানুষ।’ ক্ষমতায় এলে রাস্তাঘাট-নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে নজর দেওয়া হবে বলে জানান রুদ্রনীল।
এ দিন তৃণমূলের বিধায়ী বিধায়ক মনোজ তিওয়ারির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন, ‘শিবপুরে তৃণমূলের লুটের ভোটে জিতেছিলেন মনোজ তিওয়ারি। ভোটের পরে শিবপুরের মানুষই বিধায়ক এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে পোস্টার ফেলেছিলেন। সেই কারণেই মনোজকে এখানে প্রার্থী করতে পারেনি তৃণমূল। তাঁর বদলে বালি বিধানসভা থেকে ‘মাইগ্রেটেড’, ‘অকেজো’ বিধায়ক ডঃ রানা চট্টোপাধ্যায়কে শিবপুরে প্রার্থী করা হয়েছে। উনি আরেকটা বিধানসভা কেন্দ্রেও কাজ না করে জ্বালিয়ে দিয়ে এসেছেন।’
এ বিষয়ে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ডঃ রানা চট্টোপাধ্যায়কে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। হাওড়া সদর তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রুদ্রনীল ঘোষ যে কথা বলেছেন তা একেবারে মিথ্যা। যদি শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কেউ কোনও ক্ষতি করে থাকে তাহলে SIR-এর নামে তা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।