আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় সোমবার রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়াল। প্রস্তাবিত ‘রূপান্তরকামী সংশোধন বিল’-এর বিরোধিতায় পথে নামেন প্রায় ৫০ জন অধিকারকর্মী। তাঁদের অভিযোগ, এই বিল তাঁদের মৌলিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বকীয়তার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।
প্রতিবাদীরা জানান, বিলটি বর্তমান রূপে কার্যকর হলে তা রূপান্তরকামী মানুষের স্বাধীনতা সংকুচিত করবে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হবে। এই অসন্তোষ প্রকাশ করতে তাঁরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তাঁরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে বিলটির প্রতিলিপি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেন। তাঁদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সমাজকে পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার সামিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের তীব্রতা স্পষ্ট করে তুলতে চান।
অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বিলটি লিঙ্গ স্বীকৃতির প্রক্রিয়াকে সহজ করার পরিবর্তে আরও জটিল করে তুলছে। এতে প্রশাসনিক বাধা বাড়বে এবং ইতিমধ্যেই প্রান্তিক অবস্থানে থাকা এই সম্প্রদায় আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
প্রস্তাবিত ট্রান্সজেন্ডার আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই পরিবর্তন আত্মপরিচয়ের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে এবং ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সংজ্ঞা সংকীর্ণ করে অনেককেই আইনি স্বীকৃতি থেকে বাদ দিচ্ছে।
বিশেষ করে 'চিকিৎসাগত প্রমাণ' বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে তারা আত্মপরিচয়ের নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন। পাশাপাশি, নতুন সংজ্ঞা ট্রান্স পুরুষ ও বহু জেন্ডার বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করছে বলেও অভিযোগ। কর্মীদের আশঙ্কা, এই আইন প্রান্তিক মানুষদের আরও কোণঠাসা করবে এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে। তাই সংশোধন স্থগিত রেখে বিস্তৃত আলোচনার দাবি উঠেছে।
এই প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মীদের মধ্যে একজন রাজা দত্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তাঁদের দাবি উপেক্ষা করা হয়, তবে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর কথায়, “এটা শুধু শুরু”, যা বৃহত্তর গণআন্দোলনের ইঙ্গিত বহন করছে।
বীরপাড়ার এই বিক্ষোভ রূপান্তরকামী ও LGBTQ+ সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষেরই প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই বিষয়ে সংলাপের পথ বেছে নেয়, নাকি আরও বৃহত্তর আন্দোলনের মুখোমুখি হয়।