• চিংড়িঘাটায় থমকে মেট্রোর কাজ, সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার
    আজ তক | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • কলকাতা মেট্রোর কাজ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। চিংড়িঘাটা মেট্রোর থমকে যাওয়া কাজ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু শীর্ষ আদালতের তরফে সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করা হয়।

    এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলা ওঠার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তিরস্কার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের তরফে বলা হয়েছে, এটা কিছু আধিকারিকের একগুঁয়েমিকেই প্রতিফলিত করছে। যারা আদতে কলকাতা শহরে মেট্রো রেল প্রকল্পটিতে আরও দেরি করতে চায় অথবা বন্ধ করিয়ে দিতে চায়। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে কোনও ত্রুটি নেই।

    এই মামলা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, "সবকিছুর রাজনীতিকরণ করবেন না। এটি একটি উন্নয়নমূলক বিষয়।" বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "উন্নয়নের চেয়ে উৎসব আপনাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ! এমন নয় যে আপনারা এটা নিজের ইচ্ছায় করছেন; আপনারা আপনাদের কর্তব্যের দ্বারা আবদ্ধ।" তিনি বলেন, "আপনারা হাইকোর্টকে বলেছেন যে উৎসবের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণের চেয়ে উৎসব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে আশা করি না যে, তারা বলবে এই কাজটি আপাতত উপেক্ষা করা হোক।"

    আজ শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বলা হয়, "আমাদের মে মাস পর্যন্ত সময় দিন। নির্বাচন চলছে, তাই এই বিলম্ব।" রাজ্য সরকারের পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলি এই পথেই চলাচল করে। এমনকি অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী গাড়িগুলিও একই রাস্তা ব্যবহার করে। কিন্তু রাজ্যের এই আবেদনে সাড়া দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, "সব কিছুর রাজনীতিকরণ করবেন না...এটা উন্নয়নের ইস্যু।"

    উল্টে প্রধান বিচারপতি বলেন, "হাইকোর্ট খুবই নরম মনোভাব দেখিয়েছে। এটি এমন একটি মামলা যেখানে আপনাদের মুখ্য সচিব এবং ডিজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এই ঘটনায় তাঁদের কর্তব্যের প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা প্রকাশ পাচ্ছে। যেখানে আদতে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই, সেখানে এটিকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।"

    চিংড়িঘাটা নিয়ে কী জটিলতা রয়েছে?

    আসলে চিংড়িঘাটায় মাত্র ৩১৬ স্কোয়ার মিটার অংশের জন্য থমকে রয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন সম্প্রসারণের কাজ। এই কাজ সম্পন্ন করতে হলে সাময়িক ভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে কাজও এগোচ্ছে না। 

     
  • Link to this news (আজ তক)