রাজ্যের আমলা ও পুলিশকর্তাদের বদলি নিয়ে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন— সোমবার হাইকোর্টের এমন অভিযোগ করল রাজ্য। যুক্তিসঙ্গত কারণেই অফিসারদের বদলি করা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি করা হয়েছে কমিশনের তরফেও। কোন কোন অফিসারদের বদলি করা হয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে কোন আমলদাদের নিয়ে আসা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা হাইকোর্টে জমা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
রাজ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার রাত থেকেই একের পর এক আমলা, পুলিশকর্তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে একাধিক জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কার্যত ‘নজিরবিহীন’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিভিন্ন মহলে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার শুনানিতে এ দিন কল্যাণ বলেন, ‘পঞ্চায়েত সচিবের মতো অফিসার যাঁদের সরাসরি নির্বাচনে কোনও যোগ নেই, সেই অফিসারদের সরিয়ে রাজ্যের উন্নয়নের কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটা বড় বিপর্যয় আনার চেষ্টা হচ্ছে।’
হাইকোর্টের এ দিন কল্যাণ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতা রয়েছে বলে স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারে না। কিন্তু এখানে সেটাই হচ্ছে।’ অন্য দিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ‘বদলি করার ক্ষমতা শুধুমাত্র নিয়োগকর্তার থাকে। এই ক্ষেত্রে কমিশন, রাজ্য সরকারের আধিকারিক, রাজ্য পুলিশের অফিসার বা পঞ্চায়েত কর্মকর্তাদের নিয়োগকর্তা নন। আপাতত ইসিআই রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তারা ওই সব কর্তার নিয়োগকর্তা হয়ে গিয়েছে।’
যদিও কমিশনের তরফে পাল্টা জানানো হয়, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট করাতে যা যা প্রয়োজন সেটাই কমিশন করছে। এই বদলির পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেই জানায় কমিশন। যে যে বদলির নথি দেওয়া হয়েছে তার সবটাই কমিশন ও মুখ্যসচিবের মধ্যে চালাচালি হয়েছে। সেইসব নথি কী করে পেলেন এই মামলাকারী?