সকালে ভোটপ্রচারে বেরিয়ে দাপিয়ে ফুটবল খেলেছেন। তার মাঝে জনসংযোগও চলছিল। ফুরফুরেই ছিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। কিন্তু উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিগড়ে গেল মেজাজ। এই নেই, ওই নেই, এটা কেন হল না, ওটা কেন হয়নি— বাসিন্দাদের এমন নানা প্রশ্নের মুখে গৌতম জবাব দিলেন, চোখ মেলে দেখলেই রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের নমুনা দেখা যাবে সর্বত্র। তাঁর দাবি, শিলিগুড়ির মেয়র হিসাবে এমন অনেক কাজ করেছেন, যা ভারতের কোনও পুরসভায় হয়নি। চাইলে গাড়িভাড়া করে দেখিয়ে আনতে পারেন সেই সমস্ত কাজ। যা শুনে বিজেপির খোঁচা, আর সেই সুযোগ পাবেন না।
সোমবার শিলিগুড়ির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা গৌতম৷ পরনে আকাশি শার্ট, কালো ট্রাউজ়ার্স। চোখে রোদচশমা। প্রাতর্ভ্রমণকারীদের সঙ্গে হেসে হেসেই কথা বলছিলেন। একদল মহিলা প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। তাঁরা মেয়র গৌতমের সঙ্গে কথা বলতে চান। মেয়রও কথা শোনার জন্য এগিয়ে যান। ওই মহিলারা প্রথমেই বলেন যে, তাঁরা তৃণমূলের সমর্থক। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের ভালবাসা, শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে একাধিক খামতি রয়েছে। তার পর ফিরিস্তি দেন। মহিলারা জানান, শিলিগুড়ি শহরের পার্কিংয়ের জায়গা থেকে ফুটপাত দখল হয়ে গিয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। আবর্জনা ফেলার জায়গার সমস্যা। অভাব-অভিযোগ শুনতে শুনতে জবাবও দিচ্ছিলেন গৌতম। তিনি শিলিগুড়ির মেয়র হওয়ার পর তিনি কী কাজ করেছেন, তার তালিকা দেন। আবার প্রশ্ন ওঠে। এ বার কঠিন হয়ে যায় গৌতমের মুখ। মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘তর্ক করবেন না! আপনি আমাকে বলেছেন। আপনাকেও শুনে যেতে হবে৷’’ রোদচশমা চোখে গৌতম বলেন, ‘‘চোখ থেকে রঙিন চশমা খুলে পৃথিবীটাকে দেখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আমরা সব কাজ বাদ দিয়ে আপনাকে গাড়ি ভাড়া করে দেখিয়ে নিয়ে আসব, আমি কী কী কাজ করেছি।’’ আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম কর্পোরেশন হিসাবে এমন অনেক কাজ করেছি।’’
মেয়র তথা প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্য এবং দাবি শুনে শিলিগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের খোঁচা, ‘‘রাজ্যে ওঁরাই ক্ষমতায়। উনি চাইলে শিলিগুড়ির জন্য বহু উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারতেন। কিন্তু সদিচ্ছার অভাবে কাজ করেননি।’’ বিধায়ক সমালোচনার সুরে বলতে থাকেন, বিগত বছর পানীয় জল খেয়ে যখন শিলিগুড়ির মানুষজন অসুস্থ হয়েছিলেন, তখন তিনিই সরব হয়েছিলেন। রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু ওই ঘটনায় কে বা কারা দায়ী, কেন এমন হল, তার জবাব এখনও পাননি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর উদ্দেশে শঙ্কর বলেন, ‘‘উনি একজন অদক্ষ মেয়র। এ বার বিধানসভা ভোটে হেরে ওঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অবসান হবে।’’