পাকিস্তানে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার বায়ুসেনার অসামরিক কর্মী
বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
জয়পুর, ২৩ মার্চ: কথায় আছে 'ঘরের শত্রু বিভীষণ'। ঠিক তারই প্রতিফলন ভারতের বায়ুসেনা দফতরের অন্দরেই। বড়সড় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ভারতীয় বায়ুসেনার এক অসামরিক কর্মীকে ঘিরে। যিনি নাকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপন সামরিক তথ্য পাচার করছিলেন। আর সেই অভিযোগেই অভিযুক্ত সুমিত কুমার নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করল রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় রাজস্থানের জয়সলমীরের বাসিন্দা ঝাবারা রাম নামক আরও এক আভিযুক্তকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও এক সন্দেহভাজনের নাম জানান, যিনি নিয়মিত পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান সুমিত কুমারের কাছে। ৩৬ বছর বয়সী সুমিত কুমার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা। তিনি অসমের ডিব্রুগড় জেলার চাবুয়া এয়ার ফোর্স স্টেশনে মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, নিজের কাজের সুযোগ নিয়ে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীদের কাছে পাঠাতেন।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স এবং এয়ার ফোর্স ইন্টেলিজেন্সের যৌথ অভিযানে তাকে চাবুয়া থেকে আটক করে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সাল থেকেই তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সরবরাহ করতেন পাকিস্তানে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তিনি চাবুয়া এবং বিকানেরের নাল এয়ার ফোর্স স্টেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাচার করেছেন। যার মধ্যে ছিল যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অবস্থান, পাশাপাশি অফিসার ও কর্মীদের গোপন তথ্যও পাচার হত পাকিস্তানে। গত ২২ মার্চ জয়পুরের পুলিশ স্টেশনে দায়ের হওয়া মামলায় অফিসিয়াল সিক্রেটস আ্যাক্ট, ১৯২৩ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩ এর অধীনে সুমিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।