• দেশে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রলিয়াম মজুত রয়েছে, লোকসভায় বললেন মোদি
    বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • নয়াদিল্লি, ২৩ মার্চ: আজ, সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এর প্রভাব আগামী বেশ কিছুদিন বজায় থাকবে। বিষয়টি উদ্বেগজনক এবং চিন্তার বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অন্যান্য দেশের মতোই ভারতের কাছেও চ্যালেঞ্জের। ফলে করোনার সময় দেশের প্রতিটা মানুষ যেভাবে একসঙ্গে লড়াই করেছিলেন আমাদের সেইভাবেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কালোবাজারির বিরুদ্ধেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যখনই কোনও বিষয়ে সঙ্কট দেখা দেয় তখনই একদল অসাধু ব্যক্তি তার সুযোগ নিয়ে কালোবাজারির চেষ্টা করে। ফলে এই বিষয়ে আমাদের কড়া নজর রাখতে হবে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। যুদ্ধের জেরে কৃষি ব্যবস্থারও ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু তাঁদেরকে আশ্বস্ত করছি কেন্দ্রীয় সরকার সবরকমভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান সার আমদানিকারক দেশ। যা আসে মূলত রাশিয়া, আরব এবং চীন থেকে। যুদ্ধের ফলে সেই আমদানি কিছুটা ব্যাহত হওয়ার ফলেই মোদির এই বক্তব্য বলে অনেকে মনে করছেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও কৃষি ব্যবস্থাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। দেশের খাদ্যশস্যের ভাণ্ডারেও কোনওরকম টান পড়েনি বলেই দাবি করেছেন তিনি।

    জ্বালানি ইস্যুতে মোদি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে আমরা অনেকটাই শক্তিশালী জায়গায় রয়েছি। আগে এলপিজি, অপরিশোধিত তেল বিশ্বের প্রায় ২৭টি দেশ থেকে ভারতে আমদানি করা হত। এখন সেটি প্রায় ৪১টি দেশ থেকে করা হয়। এছাড়াও তেল-গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। বর্তমানে ভারতে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রলিয়াম মজুত রয়েছে। তবে এই সংখ্যাটা ৬৫ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। রিফাইনারির ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

    ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংঘাত ভারতের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের পরিস্থিতির উপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলটি জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আবহে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে থাকা দূতাবাসের সাহায্যে প্রবাসী ভারতীয়দের সাহায্য করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারের বেশি ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। ইরান থেকে বহু মানুষ দেশে ফিরে এসেছেন। যাদের মধ্যে ৭০০ জন মেডিকেল পড়ুয়াও রয়েছেন। একাধিক জায়গায় ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনও খোলা হয়েছে। যুদ্ধের ফলে বহু মানুষের জীবন সমস্যার মুখে পড়েছে। তবে আমি আশাবাদী আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করেছি। যুদ্ধ বন্ধ করতে অনুরোধও করেছি। দ্রুত শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে মনে করছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)