অরূপের মৃত্যুর ৭২ ঘন্টা পেরতে না পেরতে ফের মর্মান্তিক ঘটনা আরজি করে, রোগীমৃত্যুতে উঠলো গাফিলতি এবং অমানবিক আচরণের অভিযোগ
বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালিন্দীর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে ট্রমা সেন্টারের এক শ্বাসকষ্টের রোগীর মৃত্যুতে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠল। এবারও ঘটনাস্থল সেই আরজি কর মেডিকেল কলেজ।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, রোগীর নাম বিশ্বজিৎ (মন্টু) সামন্ত। বাড়ি হাবড়া থানা এলাকায় বিশরপাড়ায়। বয়স ৬০। তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যার জন্য রবিবার মধ্যরাতে পেশায় গাড়িচালক বিশ্বজিৎবাবুকে আরজি করের ইমারজেন্সিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই চলছিল অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা। অভিযোগ, ভোরের দিকে বাথরুম (পায়খানা) পেলে বেড প্যান দেওয়া দূর অস্ত, কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে ইমারজেন্সি থেকে বেরিয়ে বাইরে গিয়ে বাথরুম করে আসতে বলেন। বলেন মেন গেটের সামনের পে এন্ড ইউজ টয়লেটে যেতে। আশঙ্কাজনক অবস্থার মধ্যে স্ত্রী এবং সন্তান তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়। তার দোতলায় বাথরুম করার জায়গায় উঠতে না উঠতেই অবস্থা আরো খারাপ হয়। সেখানেই মারা যান তিনি। এরপর হাসপাতাল থেকে বলা হয়, ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। আপনারা যেমন রোগীকে এনেছেন, তেমন নিয়ে চলে যান। বাইরের কোনো ডাক্তারকে দিয়ে সার্টিফিকেট ইস্যু করিয়ে নেবেন। যদি সার্টিফিকেট পেতে হয়, তাহলে ময়নাতদন্ত করাতে হবে। তাই নিয়ে একপ্রস্ত কথা কাটাকাটি এবং বাকবিতণ্ডা হয়। শেষ পর্যন্ত বাড়ির লোকজন ময়নাতদন্তে রাজি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কী করে এত বড় একটা হাসপাতাল মুমূর্ষু রোগীর সঙ্গে এতটা অমানবিক আচরণ করে? চূড়ান্ত খারাপ অবস্থায় থাকা রোগীকে কোন যুক্তিতে ইমারজেন্সির বাইরে গিয়ে বাথরুম করে আসতে বলে? তাঁরা ট্রমা সেন্টারের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, এত বড় একটা ট্রমা সেন্টার করেছে, রোগীদের ব্যবহারের জন্য কোন ভালো বাথরুম নেই? এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হাসপাতালে সুপার তত উপাধ্যক্ষ ডা: সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি।