গাজিয়াবাদ: দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ক্ষত এখনও টাটকা। এরইমধ্যে উত্তরপ্রদেশে বড়োসড়ো গুপ্তচর চক্রের হদিশ পেল পুলিশ। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে নাবালক, মহিলারাও। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান থেকে মডিউলের সদস্যদের যাবতীয় নির্দেশ দিত হ্যান্ডলাররা। অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী দেওয়া হত টাকা। সেনাঘাঁটি সহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি চালাত অভিযুক্তরা।
গত ১৪ মার্চ গোয়েন্দা সূত্রে সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পায় গাজিয়াবাদের কৌশাম্বী থানা। খবর মেলে, উত্তরপ্রদেশের ভোভাপুরে রেলস্টেশন ও সেনাঘাঁটির ছবি-ভিডিয়ো তুলছে একদল যুবক। তারপর সেই তথ্য পাঠানো হচ্ছে পাকিস্তানে। তদন্তে নেমে এক মহিলা সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের মোবাইল খতিয়ে দেখতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। ফোনের গ্যালারিজুড়ে শুধুই সেনা সংক্রান্ত তথ্য। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ সহ বিভিন্ন বিভাগের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। ধৃতদের জেরা করে জানা যায়, চরচক্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পাক হ্যান্ডলারদের হাতে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে চক্রে নিয়োগ করা হত। রেলস্টেশন সহ বিভিন্ন এলাকার ভিডিয়ো তোলার কৌশল শিখিয়ে দেওয়া হত। এর জন্য মিলত ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। ধৃতদের মধ্যে চারজন সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গিয়েছিল। সেখান থেকেও সংবেদনশীল তথ্য ইসলামাবাদে পাচার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লি-জম্মু রেলওয়ে করিডরে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সিসি ক্যামেরা বসাতে চেয়েছিল অভিযুক্তরা। সেনার গতিবিধি নজরে রাখতেই এই পদক্ষেপ। টার্গেটে ছিল প্রায় ৫০টি সেনাঘাঁটি। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট ও হরিয়ানার সোনেপতে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট অপারেশনের জন্য প্রযুক্তিতে দক্ষ যুবকদের দলে টানা হত। সন্দেহ এড়াতে ব্যবহার করা হত নাবালক ও মহিলাদের। বিদেশি মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে তথ্য আদানপ্রদান করত অভিযুক্তরা।
চরবৃত্তির পাশাপাশি সিম পাচার চক্রের তদন্ত চালানো হচ্ছিল। জানা গিয়েছে, ভারত থেকে পাকিস্তানে সিম ও ওটিপি পাঠিয়ে দিত অভিযুক্তরা। এই কাজের জন্য ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হত। উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, বিহার, নেপাল পর্যন্ত ছড়িয়ে এই মডিউল। গত ২০ মার্চ পাঁচজন নাবালক সহ ন’জনকে গ্রেপ্তার করে সিট। এরপর ২২ মার্চ ফরিদাবাদ থেকে নৌশাদ আলি ওরফে লালুকে হেপাজতে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে মথুরা থেকে মীরা নামে এক ই-রিকশ চালক ও এক নাবালককে আটক করে পুলিশ। তবে মডিউলের অন্যতম সদস্য সমীর ওরফে শ্যুটারের হদিশ এখনও মেলেনি।