• জ্বালানি সংকটে কোণঠাসা! সংসদে বিরোধীদের দ্বারস্থ মোদি
    বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আশ্বাসই সার! কেন্দ্রের একাধিক পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, জ্বালানি সংকটে ক্রমেই কোণঠাসা সরকার। সোমবার সংসদে সেকথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে লোকসভায় প্রথমবার মুখ খুলে নিজেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টানলেন কোভিডকালের। আর সেবারের মতো একজোট হয়ে সমস্যা মোকাবিলার আরজি জানালেন বিরোধীদের কাছে। অথচ কয়েকদিন আগেও কেরল থেকে অসমে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে তিনি লাগাতার বলে এসেছেন, ‘প্রকৃত দেশপ্রেমী বিদেশনীতি নিয়ে কখনোই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় না। অথচ বিরোধীরা সেটাই করে চলেছেন।’ সেই মোদিই এবার যুদ্ধকে সামনে রেখে লোকসভায় আবেদন জানালেন, এরকম সংকটের সময় সরকার ও বিরোধীদের সুর যেন একইরকম হয়। ঐকমত্যের বার্তাই যাওয়া উচিত অন্তত সংসদ থেকে। এমনকি দেশবাসীর জন্য সংযম এবং কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।

    আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম আকাশ ছোঁয়ার পথে। টাকার পতন নিত্যদিন নতুন রেকর্ড গড়ছে। শেয়ার বাজারে ধস অব্যাহত। লগ্নিকৃত অর্থ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে দেশি ও বিদেশি আর্থিক সংস্থা। আবার সাধারণ মানুষও অর্থক্ষয় ঠেকাতে টাকা তুলে নিচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে। বন্ধ করে দিচ্ছে এসআইপি। রপ্তানি যে ধাক্কার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সেটাও মনে করাচ্ছে করোনাকালের কথা। এই পরিস্থিতিতে এদিন প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রবল উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। আমাদের প্রত্যেককে দীর্ঘমেয়াদি এক বিরূপ প্রভাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এরপরই বিরোধীদের এবং দেশবাসীকে উদ্দেশে তাঁর আহ্বান—‘আসুন, আমরা যেমন করোনাকালেও ধৈর্য, স্থৈর্য, সংযম এবং কৃচ্ছ্রসাধন করে সেই সংকটের মোকাবিলা করেছি, এবারও সেরকমই এক সমস্যার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করি! সরকার ও মানুষ যখন একসঙ্গে পথ হাঁটবে, তখন সব চ্যালেঞ্জ উড়িয়ে জয় আসবেই।’

    মোদির আহ্বানের পরও অবশ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলতে ছাড়েনি বিরোধী দল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর দলের প্রশ্ন, আপনি কি এতদিন আমাদের কিছু বলেছেন? বিদেশনীতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, আজকের এই সমস্যার জন্য কোন কোন নীতি দায়ী, সেগুলি বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেনি সরকার! কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি সরাসরি বলেছেন,‘এতদিন আমাদের অন্ধকারে রেখে এখন ঐক্যের আবেদন যথেষ্ট নয়!’

    সরকার কী কী সংকটের আশঙ্কা করছে, তা আঁচ পাওয়া গিয়েছে এদিন মোদির ভাষণে। তিনি বলেছেন, ভারতের কাছে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রল সংরক্ষিত আছে। তা ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন করার চেষ্টাই চলছে। এছাড়া গ্রীষ্মকাল শিয়রে। বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। বিদ্যুৎ সংকট যাতে না হয়, সেই চেষ্টা করতে হবে। খাদ্যের মজুত যথেষ্ট আছে কৃষকদের দৌলতে। কয়লা উৎপাদন ও আমদানি বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ খাদ্য, বিদ্যুৎ, কয়লা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলার রোডম্যাপ তৈরি রাখছে সরকার। কারণ, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীরই আশঙ্কা, দীর্ঘকালীন প্রভাব ফেলতে পারে যুদ্ধ! 
  • Link to this news (বর্তমান)