• আজ উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপি ‘হটাও’ অভিযান শুরু মমতার
    বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • দেবাঞ্জন দাস, শিলিগুড়ি: আবহাওয়ার পরিবর্তনটা এবার বেশ স্পষ্ট উত্তরবঙ্গে! অসময়ে সমতলে নাগাড়ে বৃষ্টি, পাহাড় চূড়োর সান্দাকফুতে বরফ। গেরুয়া গড় বলে পরিচিত জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক আবহাওয়াটাও কিন্তু পাল্লা দিয়ে পালটাচ্ছে! প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের জেরে ময়নাগুড়িতে পদ্মপার্টির জেলা অফিসে ঝুলছে তালা। প্রচারে বের হননি ঘোষিত প্রার্থী। ‘দলবদলু বহিরাগত’কে ঘিরে মালবাজারে পার্টি অফিস ভাঙচুরের পর আগুন লাগানোর চেষ্টাও হয়। প্রার্থীর দেখাই মেলে না—নাগরাকাটায় কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ কমা তো দূরের কথা, বেড়েই চলছে। দলীয় এহেন তপ্ত রাজনৈতিক বাতাবরণকে ঠান্ডা করতে রবিবার শিলিগুড়িতে ছুটে আসতে হয়েছিল বিজেপি নেতা সুনীল বনশল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে। ‘নয়া উত্তরবঙ্গ’ গড়ার স্বপ্ন বিলি করে ক্ষোভ কমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এরকম একটা আবর্তে উত্তরবঙ্গের এই অংশ থেকেই আজ, মঙ্গলবার ‘বিজেপি হটাও অভিযান’ শুরু করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসংযোগের জন্য চা-শ্রমিক মহল্লার এমন একটা জায়গা তিনি বেছে নিয়েছেন, যাকে ডুয়ার্সের প্রবেশদ্বার বললেও অত্যুক্তি করা হবে না—-চালসা! মাল ব্লকের এই এলাকার জ্যোতি আশ্রম ক্যাথলিক চার্চে গোটা আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ি মহকুমার চা-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সারবেন তিনি।

    ভোট ঘোষণা ইস্তক ডুয়ার্সের এই অংশে আলোচনায় রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক চা-বাগান অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি। এক যুগ পার হতে চলল। কিন্তু তা পূরণের প্রচার থামছে না! বরং চর্চায় রয়েছে, চা-শ্রমিক মহল্লায় উন্নয়নের পটচিত্র! আবাসস্থল চা সুন্দরী, বিনামূল্যে রেশন, নির্দিষ্ট ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতে ছাড়, সর্বোপরি বাগানের মজুরি বৃদ্ধি! যাঁর নেতৃত্বে এসব হয়েছে সেই নেত্রী আসছেন মহল্লায়, মানুষের উদ্দীপনা এখন তুঙ্গে—-কার্যত এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন জন বারলা! আদিবাসী সমাজের এই নেতার হাত ধরেই তরাই-ডুয়ার্সে ‘পদ্মচাষ’ বাড়িয়েছিল বিজেপি। জনসাহেব এবারের ভোটযুদ্ধে চা-বাগান মহল্লায় মমতার সেনাপতি। 

    গত অক্টোবরের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাগরাকাটার ভূগোল তো বটেই, ইতিহাস করে দিয়েছে বহু তরতাজা প্রাণকে! ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলরাশি নদী ছাপিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছিল সুলকাপাড়া গ্রাম। বামনডাঙা, টুন্ডাপাড়া চা-বাগানের মানুষ আজও শিউরে ওঠেন অক্টোবরের কথা ভেবে। তবে গাড়ির চালক জুয়েল লাকড়ার মতো এখানকার মানুষ আশ্বস্ত হন একজনের কথা ভেবে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! জুয়েলের কথায়, ‘বিপর্যয় পর্বে ত্রাণ-উদ্ধার কাজ তো ছিলই, দু’বার নিজেই এসেছিলেন দুর্গতদের মাঝে! স্বজনহারাদের চাকরির ব্যবস্থাও করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী—তা ভুলব কী করে! সেই মুখ্যমন্ত্রী ফের আসছেন এলাকায়! আমরা দল বেঁধে যাব!’

    ২০২৬ মহারণের আপ্তবাক্য কী? রাজনৈতিক মতাদর্শের সংগ্রাম? নাকি বহুত্ববাদ বনাম বিভাজনবাদের লড়াই? চর্চা চলছে। এই আলোচনার মাঝেই আজ মমতার সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন তরাই—ডুয়ার্সের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সাধারণ মানুষ, এমনকি যাজকরাও।
  • Link to this news (বর্তমান)