• অভিযোগ পেলেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এফআইআর চলবে না, ফতোয়া কমিশনের
    বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের ডিউটিতে আসা আধাসেনার বিরুদ্ধে প্রতিবার অভিযোগের অন্ত থাকে না। মুরগিটা-ছাগলটা তুলে নিয়ে যাওয়া, যৌন হয়রানি তো বটেই, অভিযোগের মাত্রা কখনো সীমা ছাড়িয়ে যায়। তার নিরিখে এফআইআর টানতে বাধ্য হয় রাজ্য পুলিশ। কিন্তু এবার এই আইনি পদক্ষেপেও নয়া ফতোয়া জারি করে দিল নির্বাচন কমিশন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রেকর্ড প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে আসছে রাজ্যে। সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশন জানিয়ে দিল, অভিযোগ পেলেই এখন থেকে আর এফআইআর দায়ের করতে পারবে না পুলিশ। 

    রাজ্যের সব জেলাশাসক, পুলিশ কুপার এবং কমিশনারদের এক লিখিত নির্দেশিকায় সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। লিখিত একগুচ্ছ নির্দেশিকায় তারা সাফ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনো জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে প্রথমে যথাযথ ‘এনকোয়ারি’ করতে হবে পুলিশকে। তাতে অভিযোগের সারবত্তা মিললে তবেই এফআইআর দায়ের করতে পারবে পুলিশ-প্রশাসন। কমিশনের এমন সতর্কবার্তা ঘিরে রাজ্যের পুলিশ মহলে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ রাজ্য পুলিশের কর্মীদের সাফ কথা, নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা একপেশে! শুধুমাত্র হেনস্তার জন্য যাতে এফআইআর না হয়, তাই একটা রক্ষাকবচ বিএনএস ও বিএনএসএস’এ রয়েছে। আর সেটা আছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশেরও। তাহলে স্রেফ আধাসেনার জন্য এই নির্দেশিকা কেন? আর যদি ধর্ষণ-খুনের মতো অভিযোগ আসে, সেক্ষেত্রেও এফআইআর করা যাবে না? সেটা আইনবিরুদ্ধ নয়?

    ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কিন্তু কোচবিহারের শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে ভোট চলাকালীন গুলি চালিয়েছিল সিআইএসএফ জওয়ানরা। মৃত্যু হয়েছিল পাঁচজনের। এই ঘটনায় রাজ্য সরকার সিআইএসএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। আবার নিউ আলিপুর থানার কোকেন মামলায় বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে বর্ধমানে গ্রেপ্তারের সময় কলকাতা পুলিশের টিমকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর দেহরক্ষী সিআইএসএফের জওয়ানদের বিরুদ্ধে। এই ধরনের ঘটনায় এফআইআর না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। কমিশনের এই নির্দেশিকা এমন অপরাধের ক্ষেত্রেও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের হাত বেঁধে দিল। পর্যপেক্ষক মহলের একাংশের কটাক্ষ, ‘অতীতে এরাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন মধুর সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ভোটের মুখে ডিএম, এসপিদের এই সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন।’ 

    তাতে অবশ্য ক্ষোভ কমছে না পুলিশ মহলে। এবারের ভোট-বৈঠকে ভিন রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সিংহভাগ নীচুতলার পুলিশকর্মীদের উপস্থিতিতে আইপিএস অফিসারদের উদ্দেশে যে ধরনের ভাষা প্রয়োগ করছেন, তাতে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সমস্ত আইপিএস মহল রীতিমতো ক্ষুব্ধ। আইপিএসরা ঘনিষ্ঠ মহলেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘কমিশন সবাইকেই অসৎ ধরে নিচ্ছে। তার নগ্ন রূপ প্রকাশ পাচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভাষায়।’
  • Link to this news (বর্তমান)