প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে পরে আর ভোট না চাওয়ার অঙ্গীকার তৃণমূল প্রার্থীদের, এবারই প্রথম বিধানসভা ভিত্তিক ইস্তাহার
বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বিধানসভা আসন ভিত্তিক উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি তৃণমূল প্রার্থীদের। এবং তাঁরা যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, তা রক্ষা করবেন। আর তা রক্ষা করতে না পারলে পরেরবার ভোট চাইতে আসবেন না। এবার এই দাবি রাখতে চলেছেন তৃণমূলের সব প্রার্থীরা। বিধানসভা আসন ভিত্তিক ইস্তাহার প্রকাশের তোড়জোড় তৃণমূলের।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, আমরা মানুষের কাছে যাব উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। রাজ্যজুড়ে যে উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে, সেটাই সর্বাত্মকভাবে তুলে ধরা হবে।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই গত শুক্রবার নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল। আগামী দিনের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়ন, কৃষি, পুরসভা এলাকায় সৌন্দার্যায়ন, নতুন জেলাগঠনসহ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের তরফে এবার বিধানসভা ভিত্তিক ইস্তাহার প্রকাশের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকায় কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে তৃণমূল। সেইসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীরা প্রতিজ্ঞা করবেন, উন্নয়নের মানচিত্রে ওই বিধানসভা এলাকার জন্য কী কী উন্নয়ন আগামী দিনে করতে চান। প্রতিশ্রুতি দেবেন তৃণমূল প্রার্থীরা। বিধানসভা এলাকার ভোটারদের কাছে তৃণমূল প্রার্থী অঙ্গীকার করবেন, ভোটে জিতে এলে ওই বিধানসভার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কী কী করবেন। আর যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেবেন, তা সময়ের মধ্যেই পূরণ করবেন। আর তা পূরণ করতে না পারলে পরেরবার ভোটারদের কাছে আর ভোট চাইতে আসবেন না।
তৃণমূল প্রার্থীদের এই অঙ্গীকার রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা, এর আগের নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে ভোট প্রচারের সময় অনেক দলের প্রার্থীরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। ভোট শেষ হলে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে এবার নয়া নজির তৈরি করতে চলেছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। যেখানে তৃণমূল প্রার্থীরা অঙ্গীকারপত্র পেশ করবেন ভোটারদের কাছে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, যে এলাকায় বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত সাংসদ, বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের কোনোদিন ওই এলাকার উন্নয়নে দেখা যায়নি। নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য দিল্লি থেকে পাঁচ পয়সা আনতে পারেননি। নিজের এলাকার জন্য কোনো উন্নয়নমূলক প্রশাসনিক বৈঠক কেন্দ্রের মন্ত্রী বা অফিসারদের নিয়ে করাননি। ফলে বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের মতো ‘বসন্তের কোকিল’ তকমা গায়ে লাগাতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থীরা। এবার তৃণমূল প্রার্থীরা প্রতিজ্ঞা করছেন, জিতে আসার পর নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়নই হবে তাঁর পাখির চোখ।