আর্থিক বছর শেষ হতে চললেও রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন পরিকল্পনার তথ্য চায়নি নয়াদিল্লি, ধন্দে নবান্ন
বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিটি অর্থবর্ষের শুরুতেই বার্ষিক গ্রামোন্নয়ন পরিকল্পনা (গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বা জিপিডিপি) তৈরি করে কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হয় রাজ্যকে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসেই তা তলব করে দিল্লি। সেসব যাচাই করে এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে অনুমোদন দেয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। এই অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যের জন্য অর্থ কমিশনসহ অন্যান্য খাতের নিজের অংশের অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্র। চলতি অর্থবর্ষের বাকি আর মাত্র আটদিন। কিন্তু দিল্লি এখনো এই জিপিডিপি চায়নি। তাই প্রশাসনের অন্দরে ধন্দ দেখা দিয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রতিবছরের মতো, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্যও কেন্দ্র ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেবে বলে ধরে নিয়েছিল রাজ্য। আর সেই অনুযায়ী অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ পাঠিয়ে সেই কাজ শুরুও করে দিয়েছিল রাজ্য। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ইতিমধ্যে জিপিডিপির কজে শেষ করে রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্র না চাওয়ায় সেই তথ্য গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে পাঠানো যাচ্ছে না। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, সমস্ত কিছুই তৈরি করে রাখা হয়েছে। এক ক্লিকেই তা পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর তিনমাস কেটে গেলেও এই তথ্য কেন চাওয়া হল না! বিস্মিত রাজ্যের আমলা মহল। তবে অভিজ্ঞ আমলাদের একাংশের মতে, এবছর নতুন অর্থ কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা বলেই এই দেরি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে চালু হচ্ছে ষোড়শ অর্থ কমিশন। কেন্দ্রীয় বাজেটে এই কমিশন চালু হওয়ার কথা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করলেও তা কীভাবে কার্যকার হবে তা কেন্দ্র জানায়নি। জিপিডিপি তৈরির কথা কেন্দ্রের তরফে এখনো জানানো হয়নি সম্ভবত এই কারণে। প্রশাসন সূত্রে আরো খবর, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোট থাকায় সে-বছর ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্যের পাঠানো পরিকল্পনা যাচাই করে তার অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র।