নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের বিরুদ্ধে কার্যত বোমা ফাটালেন হাবড়ার বিজেপি নেতা। হাবড়া বিধানসভার ‘বহিরাগত’ প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ২০১৯ সালে বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৃণালকান্তি দেবনাথ। শুধু তাই নয়, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগও তুললেন। তাঁর দাবি, ’১৯ সালে লোকসভার টিকিট দিতে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আরএসএস থেকে আসা বিজেপি নেতা মৃণালবাবুর এই বক্তব্যে বিধানসভা ভোটের মুখে চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় গেরুয়া শিবির। অস্বস্তিতে এখানকার বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলও।
হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে দেবদাস মণ্ডলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দেবদাসবাবু বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিতি তিনি। বনগাঁ থেকে তুলে এনে তাঁকে হাবড়ায় প্রার্থী করায় বিজেপির অন্দরে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। হাবড়ার বাসিন্দা, পেশায় চিকিৎসক এবং আরএসএস কর্মী মৃণালকান্তি দেবনাথের ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন, ক্ষোভের আগুনে তা কার্যত ঘৃতাহুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, দেবদাস মণ্ডলের প্রার্থী হওয়া নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন মৃণালবাবু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর করা পোস্ট নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাইলে মৃণালবাবু বলেন, ‘যেটা ঠিক, সেটাই পোস্ট করেছি। আমাকে টিকিট দেওয়ার পর রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা ফোন করে বলেন, আপ কা টিকিট মিল গ্যায়া। কিতনা খরচ করেঙ্গে? এর পাঁচদিন পর কেন্দ্রের এক মন্ত্রী ফোন করে টিকিটের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম, আপনি আমার বাড়িতে আসুন। মিষ্টি খাওয়াব। কিন্তু টিকিটের জন্য একটা টাকাও দেব না।’ দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও আমাকে প্রার্থী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো নিজের খরচে দেওয়াল রং করেছিলাম। কিন্তু দল টিকিট দেয়নি। রাহুল সিনহাকে টিকিট দিয়ে দল হারল।’ এবারের বিজেপি প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেবদাসকে আমি চিনি না। হাবড়া থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য স্থানীয় যোগ্য কোনো প্রার্থী কি ছিল না? এখানে অনেকে আছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন দল করছেন। টিকিট পেতেও পারতেন।’
এ প্রসঙ্গে দেবদাসবাবু বলেন, ‘টাকার কথা তিনি এতদিন বলেননি কেন? তার মানে অন্য কোনো অভিসন্ধি রয়েছে। আমি বহিরাগত নই। হাবড়ার মানুষের সঙ্গে আমার ৪০ বছরের সম্পর্ক।’ বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, ‘২০১৯ সালের বিষয় নিয়ে ২০২৬ সালে এসে কেন উনি অভিযোগ করছেন, বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়।’ তৃণমূল নেতা নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ‘এখন বিজেপিকে দেখে বড্ড করুণা হচ্ছে। নিজেদের ঘর নিয়েই ওদের ল্যাজেগোবরে অবস্থা। আসলে ওদের দলে টাকা ছাড়া কিছুই নেই। মানুষ ওদের ফের প্রত্যাখান করবে।’