উত্তর দমদমে ঘর গোছাচ্ছে তৃণমূল, পিছিয়ে থাকা ওয়ার্ডে বাজিমাত করতে ‘বাছাই টিম’
বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গত লোকসভা ভোটের নিরিখে উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকায় ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। ফলে এবার বিধানসভা ভোটের লড়াই অনেকটা এগিয়ে থেকে শুরু করছে ঘাসফুল শিবির। তারপরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ দলের ভোট ম্যানেজাররা। গত নির্বাচনে ৫০০ থেকে ৭০০ ভোটে পিছিয়ে থাকা পাঁচটি ওয়ার্ডকে ‘পাখির চোখ’ করে প্রচার কৌশল সাজাচ্ছেন তাঁরা। বুথভিত্তিক সংগঠন ঢেলে সাজার পাশাপাশি শহর তৃণমূলের বাছাই করা নেতৃত্বকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি এসআইআর ইস্যুও। যদিও বিজেপি এবং বাম—দুই শিবিরই আশাবাদী, এই কেন্দ্রে তারাই শেষ হাসি হাসবে।
উত্তর দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে উত্তর দমদম পুরসভা ছাড়াও রয়েছে নিউ বারাকপুর পুরসভা। গত লোকসভা ভোটে উত্তর দমদম পুরসভার ৩৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল এগিয়েছিল ২১টি ওয়ার্ডে। এর মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৬০ ভোটে এগিয়ে থাকা একাধিক ওয়ার্ড রয়েছে। শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১,০১৭ ভোট ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১,৯৫৩ ভোটের ‘লিড’ ছিল তাদের। ১৩টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। তার মধ্যে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। এখানে তৃণমূল প্রায় ৮৬১ ভোটে পিছিয়ে যায়। প্রাপ্ত ভোটের হারে তৃণমূল ছিল তিন নম্বরে। প্রথম দুইয়ে ছিল বিজেপি ও সিপিএম। এছাড়া শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫৪০ ভোট ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩৮০ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সব মিলিয়ে ৩৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬,১২৭ ভোটে এগিয়ে থাকে তৃণমূল।
অন্যদিকে, নিউ বারাকপুরের ২০টি ওয়ার্ড থেকে মাত্র ১৭৫ ভোটের ‘লিড’ এসেছিল রাজ্যের শাসক দলের। ১৪টি ওয়ার্ডে জিতেছিল তৃণমূল। ছ’টি ওয়ার্ডে জিতেছিল বিজেপি। তার মধ্যে সাত নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৭৯৬ ভোট, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৫৭ ভোট, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৫২৩ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।
পিছিয়ে থাকা এসব ওয়ার্ডে বাজিমাত করতে বুথভিত্তিক টিম গঠন করা হয়েছে। শহর তৃণমূলের বাছাই নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ওই এলাকায় প্রচারের বিষয়ে নজর রাখছেন। পাড়া বৈঠকের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুথ কমিটিতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মীদের ঢোকানো হয়েছে। তাঁরা রাজ্য সরকারের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি আমার পাড়া, আমার সমাধান প্রকল্পে হওয়া রাস্তা, ড্রেন সহ উন্নয়নের সাতকাহন তুলে ধরছে। এসআইআর পর্বে কারা পাশে ছিল, সে কথাও ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে জোড়াফুল শিবির।
নিউ বারাকপুরের তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বলেন, ‘মতুয়া অধ্যুষিত কিছু এলাকার মানুষ বিজেপির অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার ও পুরসভার উন্নয়নে ও এসআইআর পর্বে তাঁরা বিজেপির দ্বিচারিতা ধরে ফেলেছেন। মানুষ এবার জবাব দিতে তৈরি।’ বিজেপির উত্তর শহরতলি সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘অভয়া কাণ্ড, চাকরি চুরি, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি মানুষ ভোলেনি। প্রতিটি শহরে সিন্ডিকেটরাজ, চুরি, কোটিপতি কাউন্সিলারদের দাদাগিরি ও অত্যাচার শহরবাসী মাথায় রেখেছেন। উত্তর দমদমের শিক্ষিত মানুষ জবাব দিতে তৈরি হয়ে আছেন।’