‘আর কতদিন অবৈধ কর্মী হিসাবে থাকব?’ বিজেপিকে বিঁধে বিস্ফোরক সন্দেশখালির মহিলা নেত্রী
বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালি মহিলা আন্দোলনের ‘পোস্টার গার্ল’ পিয়ালি দাসের গলায় আক্ষেপের সুর। বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত বিক্ষোভের কথা তাঁর মুখে। বললেন, কাজের সময় তাঁদের গুরুত্ব ছিল। এখন আর নেই। স্বাভাবিকভাবে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে চোরাস্রোত বইছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সন্দেশখালিতে জমি আন্দোলনের পাশাপাশি মহিলা সুরক্ষা নিয়েও ধারাবাহিক আন্দোলন চলে। সেখান থেকেই ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রার্থী ঠিক করে বিজেপি। সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকে বসিরহাটে প্রার্থী করে তৃণমূল। পিয়ালি ছিলেন রেখার ছায়াসঙ্গী। প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— ভোট প্রচারে সামনের সারিতে বসতে দেখা গিয়েছে পিয়ালিদের।
গত দু’বছরে ইছামতী দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। রেখা পাত্র হেরেছেন লোকসভা ভোটে। এবার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় তিনি বিজেপির প্রার্থী। তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ চরমে। এই পর্বে এবার বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন আর এক প্রতিবাদী মুখ পিয়ালি। সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে পিয়ালি লেখেন, ‘আর কতদিন বিজেপির অবৈধ কর্মী হিসাবে থাকব?’ পিয়ালির কথায়, ‘আন্দোলনের সময় যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই প্রতিবাদী মহিলাদের বড়ো অংশই পুরানো দল, তৃণমূলে ফিরেছে। তিনি এবং আরও কয়েকজন এখনও পদ্ম শিবিরে থাকলেও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।’ একরাশ ক্ষোভ ছড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তাঁকে এবং তাঁর মতো কর্মীদের সামনে এনে বিজেপি রাজনৈতিক লড়াইয়ে গতি এনেছিল। লোকসভা ভোটের সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের দিয়ে প্রচারও করানো হয়। সেই সময়ের গুরুত্ব এখন আর নেই। পরিস্থিতি বদলাতেই দল তাঁদের পিছনের সরিতে ঠেলে দিয়েছে। দল যেদিন মনে করবে, সেদিন কাজে লাগাবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে হতাশার সুর স্পষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে সন্দেশখালি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই কার্যত ঘরবন্দি হয়ে গিয়েছেন পিয়ালি। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছেন অনেকটাই। আন্দোলনের সময় যাঁদের আনুগত্যে ভর করে সন্দেশখালিতে ভিত খুঁড়েছিল বিজেপি, তাঁদেরই এখন দল ঠেলে দিয়েছে পিছনের সারিতে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নেতা পলাশ সরকার বলেন, দল সবাইকেই গুরুত্ব দেয়। যে কোনো সমস্যা, আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব। তৃণমূল নেতা দিলীপ মল্লিক পালটা বলেন, বিজেপি যে রাজনৈতিক মুনাফা লুটতে মহিলাদের ব্যবহার করেছে, তা ফের প্রমাণিত হল। রাজনৈতিক মহল বলছে, মহিলা আন্দোলনের এক সময়ের পোস্টার গার্ল যদি প্রকাশ্যে এমন আক্ষেপ করেন, তাহলে সংগঠনের ভিতরে যে অস্বস্তি বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।