নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাল ভারতীয় নথির ভিত্তিতে পাসপোর্ট তৈরি করে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রাশিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। প্রায় আড়াই বছর পর কলকাতা ফিরতেই বিমাবন্দরে অভিবাসন দপ্তর তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীপক মাহাত ওরফে দুল্লু মাহাত নামে ওই অভিযুক্তকে লালবাজারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক বাংলাদেশের আওয়ামি লিগের সদস্য।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামি লিগের অনেক নেতা-কর্মী বনগাঁ, বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। দালাল ধরে এখানে ঢোকার পর ভারতের আধার, প্যান, ভোটার কার্ড সহ বিভিন্ন নথি জোগাড় করেন তাঁরা। সেসব দেখিয়ে তৈরি করে ফেলেন ভারতীয় পাসপোর্ট। তাঁদের জমা পড়া নথি যাচাই করতে গিয়ে পাসপোর্ট দপ্তর বুঝতে পারে, সেগুলি জাল। এমন ১৩০টির বেশি পাসপোর্ট চিহ্নিত করে তারা কলকাতা পুলিশকে পাঠায়। তার ভিত্তিতে সিকিওরিটি কন্ট্রোল এফআইআর রুজু করে। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে লালবাজার।
তদন্তে উঠে আসে, ভুয়ো ভারতীয় নথি দিয়ে পাসপোর্ট বানানোর পর এই বাংলাদেশিরা ফ্রান্স, ইতালি, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গিয়েছেন। এই পলাতকদের তালিকায় ছিল দীপক মাহাতর নাম। তাঁর নামে লুক আউট নোটিসও ছিল। তাই রবিবার তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে নামতেই আটক করে লালবাজারে খবর দেওয়া হয়। গোয়েন্দারা এসে অভিযুক্তকে নিজেদের হেপাজতে নেয়।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে প্রথমে তিনি শ্রীলঙ্কা যান। সেখানে ট্র্যাভেল ট্যুরিজম সেক্টরে মাস দু’য়েক কাজ করেছিলেন। ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট মারফত জানতে পারেন, রাশিয়ায় মাছের প্যাকেজিং কোম্পানিতে লোক নেওয়া হবে। সেখানে আবেদন করে চাকরি জুটিয়ে নেন তিনি। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি রওনা দেন রাশিয়ায়। সেখানে তাঁর ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিরে আসতে হয় ভারতে। তখনই ধরা পড়েন কলকাতা বিমানবন্দরে। তদন্তকারীদের ধৃত আরও জানিয়েছেন, বনগাঁ এলাকার এক দালাল তাঁকে জাল ভারতীয় নথি এবং পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যাবে বলে জানায়। ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি সমস্ত নথি তৈরি করান। সোমবার অভিযুক্তকে আলিপুরে বিশেষ আদালতে তোলা হয়। তাঁর পক্ষে লিগ্যাল এডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, অভিযুক্ত জাল নথি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেছে, তার প্রমাণ মেলেনি। সরকারি আইনজীবী প্রতিবাদ করেন। সওয়াল জবাব শেষে ধৃতকে পুলিশ হেপাজতে পাঠায় আদালত।