• ব্যর্থ কমিশন, তালিকা অধরাই, গভীর রাতে প্রকাশের নামে বিভ্রান্তি, বিচারাধীনরা আঁধারেই
    বর্তমান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিনভর অপেক্ষা। উৎকণ্ঠা। গভীর রাতে নামমাত্র তালিকা প্রকাশের বিভ্রান্তি। এবং সেই ঝুলে থাকা ৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ। নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে এই ছিল সোমবার গোটা দিনের ঘটনাক্রম। রীতিমতো ঘোষণা ছিল, এদিন প্রকাশ হবে এসআইআরের অতিরিক্ত তালিকা। সেই মতো সময়ও নির্ধারিত করা হয়েছিল। দুপুর থেকে বিকেল গড়াল, তারপর রাত। ২৯ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষণাও সারল কমিশন। কিন্তু সবটাই হাওয়ায়। উৎকণ্ঠা নিয়েই দিন শেষ হল বাংলার আধ কোটিরও বেশি ভোটারের। আর তারপর হল মুখরক্ষার মরিয়ার চেষ্টা! সোমবার গভীর রাতে বিবেচনাধীন ভোটারদের অতিরিক্ত প্রথম তালিকা ‘নামমাত্র’ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। তবে তালিকায় বিচারাধীন ভোটারদের কত নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই সংখ্যা কমিশনের তরফে জানানো হয়নি। জানা যায়নি নাম বাদের সংখ্যাও। শুধুমাত্র তালিকা প্রকাশের বিষয়টিই জানিয়েছে। তাও কোনোরকম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এই প্রথমবার শুধুমাত্র মুখরক্ষার তাগিদে এভাবে একটি জোড়াতালি দেওয়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হল। একরাশ বিভ্রান্তি নিয়ে। বিচারাধীন ভোটারদের আঁধারে রেখেই।

    সোমবার বিকেলে প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে বলে ঘোষণা করেছিল কমিশন। কিন্তু কোথায় কী? প্রথমে জানানো হয়, সময় বিকেল ৩টে-সাড়ে ৩টে। তারপর রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, ‘সাড়ে ৯টা নাগাদ তালিকা প্রকাশ হবে।’ শেষ পর্যন্ত ২৯ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মনোজ। কিন্তু আদপে উৎকণ্ঠায় থাকা ভোটারদের কাছে সেই তালিকা পৌঁছায়নি। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে সমস্ত তথ্য জানানো হয়। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সংবাদ মাধ্যমকে আড়াল করছে কমিশন। গভীর রাতে দেওয়া ‘নামমাত্র’ তালিকাকে বুথ অনুযায়ী দু’টি ভাগে ভাগ করেছে কমিশন। নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্য আলাদা তালিকা বের করা হয়েছে। কিন্তু এসবের পরও কাজের কাজ কিছু হয়নি। অনলাইনেও তালিকা দেখা যাচ্ছে না। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকা ডাউনলোড করতে পারছেন না উদ্বিগ্ন ভোটাররা। এমনকি এপিক নম্বর দিয়েও নাম দেখা যাচ্ছে না।

    আরও আশ্চর্যের বিষয় যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তা নাকি পূর্ণাঙ্গ অতিরিক্ত তালিকায় নয়। অর্থাৎ বিচারাধীন ভোটারদের নথি নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকা বিচারকরা যে সংখ্যক ভোটারদের নথি নিষ্পত্তি করে তা আপলোড করেছিলেন, তার অর্ধেকেরও কম নাম প্রকাশ করে এই অসম্পূর্ণ দেওয়া তালিকা তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অথচ, এদিন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ২৯ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ শেষ করে ই-সাইনের মাধ্যমে তা আপলোড করেছেন বিচারকরা। কিন্তু তাঁরা সেই কাজ শেষ করলেও নিষ্পত্তি হওয়া সমস্ত ভোটারের তালিকা কমিশন প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তালিকাই প্রকাশেরই গড়িমসি নয়। ইতিমধ্যে ২৩টি জেলার জন্য গঠিত মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল তৈরির কথা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে কমিশন। কিন্তু জেলায় জেলায় ট্রাইবুনালগুলির কার্যালয় কোথায় তৈরি হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। ফলে তালিকা প্রকাশ হলেই বাদ পড়া ভোটাররা আবেদন জানাতে পারবেন না।
  • Link to this news (বর্তমান)