নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাড়িতে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় অঙ্ক কষা নয়। কেন না তাঁর বিপরীতে লড়ছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী সুজিত বসু। তিনি তিনবারের বিধায়ক। এবং মন্ত্রী। তাই ‘কাস্তের ধার এবং হাতুড়ির ভার’ বাড়াতে বিধাননগরে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন সিপিএম প্রার্থী ও পেশায় আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা। ব্লকে ব্লকে মিছিলে জোর দিয়ে জোরদার জনসংযোগ তাঁর লক্ষ্য। হাঁটতে হাঁটতে করজোড়ে ভোটারদের বলছেন, ‘আমি সৌম্যজিৎ রাহা। সিপিএম প্রার্থী। এবারের ভোটটা দেখবেন’। তিনি ২৪ বছর ধরে আইন প্র্যাকটিস করছেন। আদালতে শাসক-বিরোধী উভয়ই তাঁর ক্লায়েন্ট। ভোটের ময়দানে রায় দেবেন জনতাই। তাই কাজ সামলে তাঁদের দবরারেই হাজির হচ্ছেন তিনি।
সল্টলেকেই বাড়ি সৌম্যজিৎ রাহার। আদালতে নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন। বিভিন্ন নামী সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক। বামপন্থী আইনজীবী সংগঠন ‘সারা ভারত আইনজীবী সমিতি’র ন্যাশনাল সেক্রেটারিয়েট মেম্বার। ২০১৩ সালে একবার পুরসভার উপ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সামান্য মার্জিনে হেরেছিলেন। বিধানসভায় প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন তিনি। সকালে প্রচার করে তারপর আদালতে যাচ্ছেন। আবার বিকেলের পর যোগ দিচ্ছেন প্রচারে। সোমবার বিকেলে সল্টলেক করুণাময়ী থেকে মিছিল করেন তিনি। করুণাময়ী-২ নম্বর গেট থেকে মিছিল শুরু হয়। ই ই ব্লক, ডি এল ব্লক ঘুরে সি কে-সি এল মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়।
‘স্যার চিনতে পারছেন?’ মিছিল শুরুর পর এক ভদ্রলোক সিপিএম প্রার্থীর কাছে হাতজোর করে হাজির। প্রতি নমস্কার করলেন সৌম্যজিৎবাবু। ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘আমি আপনার পুরনো ক্লায়েন্ট। আপনি আমার দেড় লক্ষ টাকা উদ্ধার করে দিয়েছিলেন। আপনার মিছিল হচ্ছে শুনে যোগ দিতে এলাম।’ আইনজীবী প্রার্থী সাংবাদিকদের বললেন, ‘এটাই আমার প্রাপ্তি।’ তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় নির্বাচন কমিশন বহু ভোটারকে তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। যা তৃণমূলের দুর্নীতি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি, নারী নির্যাতন এবং বিজেপি-আরএসএসের সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানোর মধ্যে সেটিংয়ের ফল। রুজি-রুটি, সুস্থ সমাজ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বামপন্থীদের পক্ষে ভোট দিয়ে এই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি’।
এদিন নিউটাউনে মিছিল করেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পিযূষ কানোরিয়া। দলীয় কর্মীরা ব্যানার, পতাকা, বেলুন হাতে সেই মিছিলে যোগ দেন। পিযূষবাবু বলেন, ‘ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিউটাউনে আমরাই জিতছি।’ রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় এদিন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ এবং একাধিক কর্মীসভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত পুরনো একটি ঘটনায় এদিন এক তৃণমূল কর্মীকে নিউটাউন থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে ছাড়াতে বিজেপি প্রার্থী থানায় হাজির হন। ওই কর্মী ‘সব্য ঘনিষ্ট’ বলে পরিচিত। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়ায়।