নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুরের বাসিন্দা এক তিন বছরের শিশুকন্যা কয়েন গিলে ফেলেছিল। তার চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাতে ও সোমবার সকালে অশান্তি ছড়ায় এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ইএনটি বিভাগের কর্তব্যরত জুনিয়র ডাক্তার ও হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে মেয়েটির বাড়ির লোকজনের দফায় দফায় বচসা ও অশান্তি হয়। অভিযোগ, সেই সময় কর্তব্যরত এক মহিলা জুনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এক নিরাপত্তাকর্মীর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে হাসপাতালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ মানবেন্দ্র সরকারকে একযোগে চিঠি পাঠান ইএনটি’র পিজিটি চিকিৎসকরা। কর্মবিরতি শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, যতক্ষণ না পর্যন্ত ওয়ার্ডের নিরাপত্তা বাড়ছে এবং দোষীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে, কর্মবিরতি চলবে। কারণ, দল বেঁধে ৮-১০ জন রোজ ওয়ার্ডে ঢুকে পড়বে, এটা মানা যায় না। সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ইএনটি ইমার্জেন্সি বন্ধ ছিল।
এদিকে, শিশুটির বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, তাঁরা শুধু দ্রুত অপারেশনের অনুরোধ করেছিলেন। তখনই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের হুমকি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। কোনো চিকিৎসককে হুমকি দিতে দেখা যায়নি। অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন বাড়ির লোক। সোমবার সকালে ‘লিভ এগেইনস্ট মেডিকেল অ্যাডভাইজ’ বা ‘লামা’ করে বাড়ির লোকজন বাচ্চাটিকে নিয়ে চলে যায়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, রবিবার বেশি রাতে শিশুটিকে ইএনটি বিভাগের ইমার্জেন্সিতে আনা হলে ভর্তি নেওয়া হয়। কয়েন বের করার জন্য জেনারেল অ্যানাসথেসিয়া করা হবে। তাই রাত ৩টের আগে অপারেশন করলে তা বাচ্চাটির পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে, একথা জানানো হয় বাড়ির লোকজনকে। তাঁরা দ্রুত ওটি করার কথা বলতে থাকে। তা নিয়েই শুরু হয় অশান্তি।