এই সময়, কৃষ্ণনগর: প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের জেরে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা! নদিয়ার পলাশিপাড়া বিধানসভা (Palashipara Assembly) কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) প্রার্থী অনিমা দত্তকে বদল করার দাবিতে আগেই ক্ষোভ জমেছিল দলের অন্দরে। কিন্তু জেলা নেতৃত্ব এই প্রার্থীকে নিয়েই প্রচারে বের হওয়ার নির্দেশ জারি রাখলে শেষপর্যন্ত বিজেপির ১০৭ জন বুথ সভাপতি, তিন জন মণ্ডল সভাপতি, মণ্ডল কমিটির ৪০ সদস্য এবং ২৫ জন শক্তিপ্রমুখ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের ওই নেতাকর্মীরা এখন স্লোগান দিচ্ছেন, ‘এই প্রার্থীকে মানব না, তবে বিজেপি আমরা ছাড়ব না।’ শেষপর্যন্ত দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করাবেন বলেও হুঁশিয়ারি ছুঁড়েছেন তাঁরা।
সোমবার স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের দিক থেকে জলঙ্গি ধারের রাস্তা দিয়ে প্রচারে বের হয়েছিলেন অনিমা। মিছিল চলাকালীন তাঁকে ‘গো ব্যাক’ শুনতে হয় নিজের দলেরই একাংশের থেকে। তাঁর পিছনে একটানা হেঁটে বিক্ষুব্ধরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে ধরা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘দল আমরা ছাড়ছি না, অনিমা দত্তকে মানছি না।’ প্রচার মিছিলে থাকা প্রার্থীর পক্ষের লোকজনের চেয়ে দলের বিক্ষুব্ধ অংশের লোকজনের সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে ছুটে আসতে হয় পুলিশকে।
বিজেপির পলাশিপাড়া বিধানসভার নির্বাচনী কমিটির কনভেনর সৌমিত্র ঘোষাল বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশ প্রচারে নামেননি প্রার্থীকে পছন্দ নয় বলে। আমার মতেও, দলের প্রার্থীকে বদল করা না–হলে কার্যত ওয়াক ওভার পেয়ে যাবে তৃণমূল। জেলা নেতৃত্ব আমাদের বহু বুথ সভাপতি, একাধিক মণ্ডল সভাপতির দাবিকে গুরুত্ব দিতে চাননি বলে এই বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৫৬ বুথ সভাপতির মধ্যে ১০৭ জন বুথ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফা দিয়েছেন তিন জন মণ্ডল সভাপতি–সহ মণ্ডল কমিটির ৪০ জন সদস্য এবং ২৫ জন শক্তিপ্রমুখও। আমাকে দল থেকে শো–কজ়ের চিঠি পাঠিয়ে তিন দিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে।’
দলীয় নেতৃত্ব যদি শেষপর্যন্ত প্রার্থী বদল না করে, তা হলে?
সৌমিত্র বলেন, ‘২৬ মার্চ বিকেলে আমরা এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় হাঁসপুকুরিয়া গ্রামে একটা সভা করব। সভা থেকে যা উঠে আসবে, সেই মতো সিদ্ধান্ত নেব। প্রয়োজন হলে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েও আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করব।’ শো–কজ় লেটার পেয়েছেন দলের স্থানীয় ১ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি প্রকাশ মণ্ডলও। তিনি বলেন, ‘দল কী ভাবে এমন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল, জানি না। রবিবার সন্ধেয় দলের দু’শোর বেশি কার্যকর্তা আমাদের কাছে জানিয়ে গিয়েছেন তাঁরা এই প্রার্থীকে মানবেন না।’ জিততে না পারলেও ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন বিভাস মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, খুবই অস্বস্তিতে আছি। অন্য দলের কর্মী–সমর্থকদের কটাক্ষও শুনতে হচ্ছে এখন।’ বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মিডিয়া কনভেনর সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনেক ভেবেচিন্তে প্রার্থী বাছাই করেছেন। এই কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই। শুনেছি, আমাদের দলের স্থানীয় কিছু নেতা এই দাবিতে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মনে হয়, অন্য কোনও দলের মদতে তাঁরা এমন আচরণ করেছেন।’