এই সময়: দিনভর উৎকণ্ঠার পরে মধ্যরাতে প্রকাশিত হলো রাজ্যের প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (Supplementary Voter List)। সোমবার রাত ন'টায় প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও ১১টা ৫৫ মিনিটে সেই তালিকা আপলোড করা হয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ওয়েবসাইটে। মোট ৬০ লক্ষ 'বিচারাধীন' ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৯ লক্ষের নিষ্পত্তি হলেও তালিকা থেকে কতজনের নাম বাদ পড়ছে, তা গভীর রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। মঙ্গলবার এই সংখ্যা জানা যাবে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে। 'ECI NET' অ্যাপে অথবা 'https://ecinet.eci.gov.in' সাইটে গিয়ে ভোটাররা এপিক কার্ডের নম্বর দিয়ে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখতে পারবেন। রাজ্যের সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইটেও নামের তালিকা দেখা যাচ্ছে।
তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে কেন বিলম্ব হলো? কমিশন সূত্রের খবর, 'বিচারাধীন' নামগুলি নিষ্পত্তি করার পরে বিচারকরা অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কমিশনের কাছে ই-সাইন করে পাঠাননি। তাই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় সেই সব নাম তোলা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি ঠিক করে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (১) এবং ডিলিশনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সিইও-র কথায়, '৭০৫ জন বিচারক অর্থাৎ জুডিশিয়াল অফিসার গোটা প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন। তাঁরা তালিকাগুলি ই-সাইন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোর পরে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ঠিক কত নাম বাদ পড়েছে সেই তথ্য মঙ্গলবার জানা যাবে।' মনোজের ব্যাখ্যা, 'তালিকা তৈরি করতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলি পাওয়ার পরে তা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।' জেলা নির্বাচনী আধিকারিক(ডিইও)–রা আজ, মঙ্গলবার বেলার দিকে বুথে বুথে এই তালিকা টাঙিয়ে দেবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ডিলিশন তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে কবে আবেদন করতে পারবেন? কারণ, সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ নিয়েও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। জেলা ভিত্তিক ট্রাইব্যুনালের জন্য ১৯ জন বিচারপতির নাম কলকাতা হাইকোর্ট জানালেও কোথাও পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। এই পরিকাঠামো প্রস্তুত করতে সোমবার মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন সিইও। চিঠিতে দ্রুত অফিস করার জন্য বাড়ি খুঁজতে বলা হয়েছে। অফিসগুলি এমন জায়গায় করতে বলা হয়েছে যাতে সকলের যাতায়াতের সুবিধে হয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা ট্রাইব্যুনালগুলির দায়িত্বে থাকবেন। সেই কাজের জন্য কর্মী ও আধিকারিকদের ব্যবস্থা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিইও বলেন, 'আমরা চাই দ্রুত ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হোক। সেখানে শুধু যাঁদের নাম অ্যাজুডিকেশন থেকে বাদ পড়ল তাঁরাই নন, তালিকাভুক্ত কারও নাম বাদ দিতে চাইলে ফর্ম-৭ পূরণ করে আবেদন করা যাবে।'