এই সময়: সিঙ্গুরের (Singur) জমি আন্দোলনের নামে বিকৃত ইতিহাস সরকারি স্কুলের পাঠ্য বইয়ে পড়ানোর অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল হাইকোর্টে (HIgh Court)। সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা উঠলে অভিযোগ করা হয়, সিঙ্গুর আন্দোলনের মধ্যে নিহত তাপসী মালিকের (Tapasi Malik) মামলা এখনও হাইকোর্টে ঝুলে রয়েছে। তারইমধ্যে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন নাম দিয়ে একটা বিকৃত ইতিহাস স্কুল পড়ুয়াদের পড়ানো হচ্ছে। যাতে তাদের মনে ভুল বার্তা যাবে। যদিও ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, হাইকোর্ট এমনন মামলা শুনতে পারে কি না, সেই ব্যাপারে মামলাকারীকে দু’সপ্তাহ পরে শুনানিতে অবগত করতে হবে আদালতকে।
তার উপরেই এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। সম্প্রতি অষ্টম শ্রেণীর সোশ্যাল সায়েন্সের বইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি বিষয়ে একটি লেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রোষের মুখে পরতে হয় এনসিইআরটিকে। সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে ওই অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের সিঙ্গুর মামলা প্রসঙ্গে বক্তব্য, হাইকোর্টের হাতে এই বইয়ের লেখা নিয়ে রিভিউ করার ইক্তিয়ার আছে কি না, তা বোঝার পরেই পদক্ষেপ করা হবে। এদিন মামলাকারীর আইনজীবী উদয় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় হাইকোর্টে সওয়াল করেন, বাম জমানায় সরকার সিঙ্গুরের কৃষি জমিতে ন্যানো গাড়ি তৈরির জন্য জমি দেয়। যার বিরোধিতা করে তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। পরে সেই আন্দোলনকে সিঙ্গুর আন্দোলনের হিসেবে ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাসের বইতে স্থান দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী হিসেবে বইয়ে নাম রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের একাধিক নেতার। পরবর্তীতে যারা অনেকেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত টাটারা কারখানা না গড়েই এখান থেকে চলে যায়। সেই ঘটনাকে এখন জমি আন্দোলনের মোড়কে ইতিহাসের পাতায় স্থান দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি এনসিআরটির গাইডলাইন অনুযায়ী করা হয়নি বলেও দাবি করেন মামলার আইনজীবী। মামলায় একটি কমিটি গড়ে তাদের মতামত নেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করে, একটি ঘটনাকে একজন ইতিহাসবিদ বলবেন সঠিক ইতিহাস। অপরজন ইতিহাসবিদ বলবেন সঠিক নয়। এই বিষয়ে এই আদালত কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে? এর পরেই দু’ সপ্তাহ পরে আবার মামলার শুনানি করা হবে বলে জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।