• রাতারাতি তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়ে প্রার্থী, দেগঙ্গার নেতাকে বহিষ্কার করল শাসকদল
    প্রতিদিন | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতায় সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রোষানলে পড়েছিলেন। এবার রাতারাতি দল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়ে প্রার্থী হলেন দেগঙ্গার নেতা, উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সদস্য মফিদুল হক মিন্টু সাহাজি। আর এহেন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। সোমবার আইএসএফের (ISF) প্রার্থীতালিকায় দেগঙ্গার প্রার্থী হিসেবে মফিদুল হক মিন্টু সাহাজির নাম দেখার পরই এই পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস।

    গত ১৭ মার্চ একসঙ্গে ২৯৪ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দেগঙ্গা আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন ১ নং ব্লকের সভাপতি আনিসুর রহমান বিদেশ। যদিও এই আসনে জেলা পরিষদ সদস্য মফিদুল হক মিন্টু সাহাজির নাম নিয়ে জল্পনা ছিল। কিন্তু তিনি প্রার্থী না হতে পেরে সোশাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। দলীয় প্রার্থী আনিসুর রহমানের ঔদ্ধত্য ও আচরণের বিরোধিতায় নানা মন্তব্য করেন। সেইসঙ্গে এলাকায় দলের ফলাফল নিয়ে তিনি পোস্ট করেন। লেখেন, “২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪-এ জয়ের ব্যবধান কমেছে, পঞ্চায়েত ভোটেও পরাজিত বুথ বেড়েছে।” মফিদুলের এসব মন্তব্য ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই দেখা যায়, এলাকায় মফিদুরের নামে আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে পোস্টার পড়ে। তাতে জল্পনা আরও বাড়ে। এনিয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছিলেন, “বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, এমনকি ঈদের শুভেচ্ছা জানাতেও ফোন করেছি। কিন্তু মিন্টু সাহাজিকে পাওয়া যায়নি।”

    শেষমেশ সোমবার আইএসএফ প্রথম দফায় ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে দেখা যায়, দেগঙ্গা আসন থেকে লড়ছেন মফিদুল হক মিন্টু সাহাজি। এরপরই শাসক শিবির তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করে। দলের তরফে মিন্টু সাহাজিতে বহিষ্কারের চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে উল্লেখ, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ দল তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করছে এবং তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। চিঠিতে সই করেছেন বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। গোটা বিষয়টি নিয়ে যথারীতি মফিদুল হক মিন্টু সাহাজির কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও।
  • Link to this news (প্রতিদিন)