• ভোট ঘোষণা হতেই সাড়ে তিন লক্ষ দেওয়াল দখলের অভিযোগ কমিশনে
    এই সময় | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ভোট ঘোষণার পরে রাজনৈতিক দলগুলির আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘনের (Violation of the code of conduct) অভিযোগে জেরবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তবে বেশির ভাগ অভিযোগই দেওয়াল দখলের। শিলিগুড়ি সহ কয়েকটি জায়গায় পুরসভার প্রতিনিধিদের সরকারি গাড়ি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে।

    ওই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্লাইং স্কোয়াড(এফএসটি) ও স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম(এসএসটি)–কে। আইনমাফিক সরকারি ভবনের দেওয়াল রাজনৈতিক দলের প্রচারে ব্যবহার করা না গেলেও অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম দুর্গাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের করঙ্গপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়াল মুছতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছেন নির্বাচন কমিশনের এসএসটির দুই সদস্য। হুগলির সপ্তগ্রামেও দেওয়াল দখলের লড়াইয়ে জড়িয়েছেন তৃণমূল-সিপিএম।

    নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর জন্য চালু টোল ফ্রি নম্বর ১৯৫০ -তে গত আট দিনে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯৮৬টি। যার প্রায় সবই দেওয়াল দখলকে কেন্দ্র করে। মুর্শিদাবাদ, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান থেকেও বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। যা নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি ভঙ্গ করেছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৮২৯টি অভিযোগ সরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ভবনের দেওয়াল দখলের। বেসরকারি বাড়ির দেওয়াল দখলের অভিযোগ জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৯০১টি। কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের মতে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে অনেকেই অভিযোগ জানাতে ভয় পায় বলে এই সংখ্যা কম।

    সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে পশ্চিম বর্ধমান থেকে। মোট ৩৫ হাজার ৭৯৮টি। এরপরেই রয়েছে কোচবিহার ও উত্তর ২৪ পরগনা। কালিম্পং, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়িতেও অভিযোগ অনেক কম। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, যে কোনও অভিযোগ আসা মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে ফ্লাইং স্কোয়াড(এফএসটি) ও স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম(এসএসটি)–কে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে। আদর্শ আচরণ বিধি ভঙ্গের যে কোনও অভিযোগ পাওয়া মাত্র ৮ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার সমাধান করে অভিযোগকারীকে বিষয়টি জানিয়ে দিতে হবে।

    কমিশনের নির্দেশে সিইও দপ্তরে অভিযোগ শোনার জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে। যার দায়িত্বে থাকছেন এক আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিক। এ ছাড়া তিন জন সরকারি আধিকারিক ও ছ’জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার তাঁকে সাহায্য করবেন। চালু করা হচ্ছে আরও একটি ফোন নম্বর। এ ছাড়া শুধু অভিযোগ জানানোর জন্য থাকবে একটি ই–মেল। এসএসটি ও এফএসটি ঠিক ভাবে কাজ করছে কি না, সেই নজরদারির জন্য তাদের গাড়িতে বসানো হচ্ছে ৩৬০ ডিগ্রি মুভিং ওয়েব ক্যামেরা। যাতে তল্লাশি ঠিক ভাবে হচ্ছে কি না, তা কমিশন দপ্তরে বসে দেখতে পাবে।

    বেশি অভিযোগ যে পাঁচ জেলায় পড়েছে

    জেলা-------------সরকারি ভবন--------বেসরকারি ভবন-----মোট অভিযোগ

    পশ্চিম বর্ধমান ৩১৪৫২ ৩৩৫২ ৩৫৭৯৮

    কোচবিহার ২৯৪৭৪ ৪০১৭ ৩৩৪৯১

    উত্তর ২৪ পরগনা ৩১৭৮৯ ১০৫ ৩১৯২০

    পূর্ব মেদিনীপুর ২৯৪৭৯             ৩২২ ২৭৮০১

    হুগলি ১৯৪৭৪             ০ ২৪৬০৩

  • Link to this news (এই সময়)