এই সময়: রাজ্যের স্কুলগুলিতে একাদশ–দ্বাদশে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগে (SSC EXAM) কাউন্সেলিংয়ের যে ‘ডেটলাইন’ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দিয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন, তা আগেই পেরিয়ে গিয়েছে। ১৬ জানুয়ারি থেকে যা হওয়ার কথা ছিল, তা কার্যত সবে আজ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। ১০টি বিষয়ে সাড়ে তিন হাজার পদে নিয়োগের কাউন্সেলিং হবে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অবশ্য ইতিমধ্যে ফেব্রুয়ারির শেষে হওয়া সামান্য কয়েকটি বিষয়ের কাউন্সেলিংয়ের ভিত্তিতে ১৬৮ জনকে দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে মরিয়া।
পর্ষদ সচিব সুব্রত ঘোষ এ ব্যাপারে ২৩ জন পুলিশ সুপার ও ছ’টি পুলিশ কমিশনারেটকে চিঠি দিয়েছেন, যাতে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিআইবি) মাধ্যমে এসএসসি–র সুপারিশপত্র পাওয়া সংশ্লিষ্ট হবু শিক্ষক–শিক্ষিকাদের দ্রুত পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়। তা না হলে তাঁদের নিয়োগপত্র ইস্যু করা যাবে না। আবার ছ’টি মেডিক্যাল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষদেরও (এমএসভিপি) পর্ষদ চিঠি দিয়ে আবেদন করেছে, যাতে এই সব প্রার্থীদের মেডিক্যাল চেক–আপ দ্রুত শেষ হয়। তবে এ সব ছাপিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই–মাধ্যমিক) যে চিঠি পাঠিয়েছেন পর্ষদের সচিব, তা নিয়ে চর্চা সবচেয়ে বেশি। ডিআই–রা জানাচ্ছেন, জেলার স্কুলে–স্কুলে যে বিষয়, ক্যাটিগরি এবং লিঙ্গ–ভিত্তিক শূন্যপদ আগে দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথ কি না, অবিলম্বে তা যাচাই করে জানাতে বলা হয়েছে। তবেই প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দিতে পারা যাবে।
যদিও ২০১৬–র ‘যোগ্য’ চাকরিহারা প্রার্থীদের দাবি, সু্প্রিম কোর্টে গত বছর ডিসেম্বরে পর্ষদের পেশ করা মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন ধরলে চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই একাদশ–দ্বাদশে ১২,৪৪৫ শূন্যপদের অধিকাংশে সুপারিশপত্র দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। যার প্রেক্ষিতে পর্ষদ নথি যাচাই, মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরে ১৬ মার্চ থেকে ১৬ মে–র মধ্যে নিয়োগপত্র ইস্যুর কথা বলেছিল শীর্ষ আদালতে। কিন্তু শূন্যপদ নিয়ে যে টানাপড়েন চলছে, তাতে নিয়োগ কবে হবে, তা অনিশ্চিত। আর এখন পুলিশ সুপার ও কমিশনাররা বিধানসভা ভোটের কাজে ব্যস্ত। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে তাঁদের ভোটের ডিউটি থেকে রেহাইও নেই। বিকাশ ভবনের আধিকারিকদের অবশ্য দাবি, পর্ষদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত শীর্ষ আদালত ২০১৬–র যোগ্যদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। তাই হাতে এখনও পাঁচ মাস সময় আছে।
তবে আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চ এ ব্যাপারে অন্য উদাহরণ টানছে। গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ উচ্চ প্রাথমিকে ১২৪১টি শূন্যপদে ২০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত স্কুলশিক্ষা দপ্তর শূন্যপদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যই সংগ্রহ করতে পারেনি!আদালতের নির্দেশে ৩০ মার্চের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন না হলে স্কুলশিক্ষাসচিব, স্কুলশিক্ষা কমিশনার, এসএসসি–র চেয়ারপার্সন এবং সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির কথা। কিন্তু কারও কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের।