• একটানা ১৯ ঘণ্টা ডিউটি! রেলের নথি তলব কলকাতা হাইকোর্টের
    এই সময় | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: কাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কর্মীদের অতিরিক্ত সময় ডিউটি করানোর অভিযোগ রেলের (Indian Railway) বিরুদ্ধে নতুন কিছু নয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মীর অভাবই এর কারণ বলে রেল ও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়। রেলকর্মীদের অতিরিক্ত সময় ডিউটি করানো নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) একটি জনস্বার্থ মামলা চলছে। সেই মামলায় উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ স্টেশনের এক কর্মীকে টানা ১৯ ঘণ্টা ডিউটি করানোর অভিযোগ তুলে সোমবার নথি জমা পড়েছে। যা শুনে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ যুগপৎ বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ— পরবর্তী শুনানিতে হাসনাবাদের স্টেশন (Hasanabad Station) মাস্টারের অরিজিনাল ডায়েরি ও উপস্থিতির বই আদালতে জমা দিতে হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের আইন অনুযায়ী, রেলের নিরাপত্তার স্বার্থে যে সব কর্মী কাজ করবেন, তাঁদের টানা ৮ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানো যাবে না। ক্লার্কদের ক্ষেত্রে সেটা ১০ ঘণ্টা। জনস্বার্থ মামলাটিতে আবেদনকারী আইনজীবী তথাগত দত্ত নথি দিয়ে দেখান, যাঁদের সর্বাধিক টানা ৮ ঘন্টা কাজ করার কথা, রেলের তেমন কর্মীদের তার চেয়ে বেশি সময় কাজ করানো হচ্ছে। হাসনাবাদ স্টেশনে এমনই এক কর্মীকে ১৯ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে যাত্রী সুরক্ষায় সঙ্কট তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়। এ দিন রেলের তরফে রিপোর্ট দিয়ে স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, হাসনাবাদ রেল স্টেশনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কর্মরত সঞ্জিত দাসকে টানা ১৯ ঘণ্টা কাজ করানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট দেখার পরেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং হাসনাবাদের স্টেশন মাস্টারের নথিগুলো তলব করা হয়।

    রেলের নিরাপত্তায় যুক্ত কর্মীদের কাজের সময় নিয়ে গত বছর হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ রেলকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রেল সেই নির্দেশ পালন করেনি, এমনই অভিযোগ জনস্বার্থ মামলাটির শুনানিতে উঠে এসেছে।

  • Link to this news (এই সময়)