ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ দুই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে সোমবার চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর দিনাজপুরে। চোপড়া ও গোয়ালপোখরের দু’টি ঘটনায় দুই পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপই মৃত্যুর কারণ। প্রশাসন খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
চোপড়ার জানকিগছ এলাকায় সোমবার ভোরে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে মারা যান জাহাঙ্গির আলম (৩৫)। পেশায় আইসক্রিম বিক্রেতা জাহাঙ্গিরের বাড়ি ওই এলাকাতেই। পরিবারের দাবি, জাহাঙ্গিরের পরিবারের পাঁচ সদস্যের নাম ভোটার তালিকার ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় ছিল। তাই তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী নুরবানু বেগম বলেন, “মানসিক চাপ থেকেই এই ঘটনা।”
গোয়ালপোখর থানার মালকুন্ডায় এ দিন সকালে মৃত্যু হয় আব্দুল হাদি (৪৯) নামে এক ব্যক্তির। তাঁর পরিবারেরও দাবি, ভোটার তালিকায় নিজের ও পরিবারের কয়েক জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় মানসিক চাপে হৃদ্রোগে মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য ফজলুল হক বলেন, “গতকালও দেখা হয়েছিল। নাম ওঠার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন। আশ্বস্ত করলেও দুশ্চিন্তায় থাকতেন।”
তৃণমূল প্রার্থী তথা চোপড়ার বিদায়ী বিধায়ক হামিদুল রহমান বলেন, “আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম। কিন্তু ভয়ে ছিলেন জাহাঙ্গির। সম্ভবত সে কারণেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।” বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন, “যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল অপপ্রচার করে মানুষকে আতঙ্কিত করছে এবং মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে।”
এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে, অসুস্থ হয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোলের বাসিন্দা সাবি দাস। সোমবার তাঁকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। সাবি এবং তাঁর তিন ছেলেমেয়ের নাম ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন।’ তাঁর মেয়ে নয়নের দাবি, “এটাই মায়ের অসুস্থতার মূল কারণ।”