বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের আর্থিক লেনদেনে ইডি ও আয়কর দফতরের নজরদারি চলছে বলে সূত্রের খবর।
শিক্ষক বা পুরকর্মী নিয়োগ, রেশন, কয়লা, গরু পাচারের মতো কেলেঙ্কারিতে সাম্প্রতিক অতীতে নেতা, মন্ত্রী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। এখন তাঁরা বেশির ভাগই জামিনে মুক্ত। তা ছাড়া, ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতির মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং শিক্ষক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী তৃণমূলের হয়ে ভোটে পর্যন্ত লড়ছেন।
তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন দুর্নীতিতে রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে দুর্নীতির কালো টাকা বিদেশে পাচার বা এ দেশে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলেও অভিযোগ। ওই সব প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ নির্মাণ ব্যবসায়ী-সহ শতাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা চলেছে বলে নানা সূত্রে উঠে আসছে। ইডি সূত্রের দাবি, ওই সব প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আমানত এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও বেশ কিছুনমুনা রয়েছে।
তবে তদন্তকারীদের অনুমান, তদন্তের আওতার বাইরেও এখনও দুর্নীতির কোটি কোটি কালো টাকা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী মারফত তা নানা ভাবে বিনিয়োগ হয়েছে বলে দাবি। ওই সব কালো টাকা ভোটের খরচে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও নানা মহলে আশঙ্কা কাজ করছে। তদন্তকারীদের কথায়, এটা মাথায় রেখেই প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেনের উপরে নজররাখা হচ্ছে।
ইডির এক কর্তা বলেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট চলাকালীন নগদ টাকা পাচারের ক্ষেত্রেও আয়কর দফতর ও ইডির সমন্বয়ে বিশেষ দল পরিস্থিতির উপরে নজর রাখবে। রাজ্যপুলিশ ও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে ভোটপর্ব চলাকালীন বাজেয়াপ্ত নগদ টাকার উৎসের তদন্ত করা হবে।’’
ইডি কর্তাদের দাবি, দুর্নীতির কালো টাকা মূলত হাওয়ালা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে নগদে প্রভাবশালীদের হাতে পৌঁছে যায়। সেই কারণে প্রায় মাস তিনেক আগে থেকেই দুর্নীতিতে জড়িত প্রায় শতাধিক হাওয়ালা কারবারিও ইডি এবং আয়কর দফতরের তদন্তকারীদেরনজরে রয়েছে।