সাতসকালে শুটিংয়ে যাওয়ার পথে অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার শিকার অরিত্র দত্ত বণিক। সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা অভিনেতার অভিযোগ, ডানলপ রথতলা মোড়ে আচমকাই তাঁকে থামিয়ে রিক্যুশিজন স্লিপ ধরিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি চায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ। পালটা আইনি যুক্তি দেখিয়েও প্রথমটায় লাভ হয়নি! ঘটনাস্থলেই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান অরিত্র। ঘটনার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছে? মঙ্গলবার সকালে সোদপুর থেকে গড়িয়ায় শুটিংয়ের কাজে যাচ্ছিলেন অরিত্র দত্ত বণিক। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে তিনি জানালেন, “শুটের কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলাম। রথতলার মোড়ে ডানলপ ট্রাফিক গার্ড আমার গাড়িটা থামায়। যেহেতু আমি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করিনি, তাই প্রথমেই থামানোর কারণ জানতে চাই। তারা জানায়, আমার গাড়িটিকে নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করতে চান তারা। আমি পালটা জানাই, এটা ব্যক্তিগত গাড়ি এবং আমার দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। তো এই রিক্যুশিজনে আমি গাড়িটি দিতে পারছি না। এরপর ওরা জোর করে আমার গাড়ি রাস্তার একপাশে দাড় করিয়ে আমার হাতে একটি রিক্যুশিজন স্লিপ ধরিয়ে বলে, যে গাড়িটা আপনাকে দিতেই হবে।” এরপরই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান অরিত্র দত্ত বণিক। তবে পালটা আইনি যুক্তি দেখানোয় শেষমেশ অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সারের ব্যক্তিগত গাড়ি নিতে পারেনি ট্রাফিক গার্ড। অরিত্র জানালেন, “প্রথমটায় আমাকে আটকে রাখা হলেও, সিগন্যাল খুললেই বলপূবর্ক সেখান থেকে বেরিয়ে যাই। নইলে ভদ্রভাবে বেরতে পারতাম না।”
মঙ্গলবার সাতসকালে অরিত্র এহেন ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় চাউড় হতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের ভূমিকা নিয়েও। কারণ আইনত, আগে সরকারি কিংবা বেসরকারি গাড়ি ব্যবহৃত হবে। তারপর প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া যেতে পারে নির্বাচনের জন্য। ভোটমুখী বঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের এহেন ‘জোরজুলুমে’র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অনেকেই। এপ্রসঙ্গে অরিত্র বেশ কয়েকটি আইনি যুক্তি তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে কেউ যদি রাস্তাঘাটে এহেন সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে কীভাবে আইনি পথে হাঁটবেন? ইনফ্লুয়েন্সার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা অভিনেতার কথায়, “প্রথমত, কলকাতা উচ্চ আদালতের রায় (২০০৬) অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি কোনওভাবেই ‘ট্রান্সপোর্ট ভেহিকেল’ (ট্যাক্সি বা বাস) নয়। মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়ার কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই নির্বাচনের কাজের জন্য (যা ভাড়ার ভিত্তিতে হয়) আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, সেকশন ১৬০ (২) আরপি অ্যাক্ট অনুযায়ী, গাড়ি নেওয়ার আগে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা নির্বাচন আধিকারিককে একটি লিখিত নির্দেশ আপনার নামে বা আপনার ঠিকানায় পাঠাতে হবে। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মুখে বলে বা ট্রাফিক পুলিশ চাইলেই গাড়ি নিয়ে নিতে পারে না। তৃতীয়ত, Rule 98 (আদর্শ আচরণবিধি) অনুযায়ী, রিক্যুইজিশন অর্ডার আপনার বাড়িতে বা কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছে দিতে হবে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে নথিপত্র কেড়ে নেওয়া বা জোর করে গাড়ি নেওয়াকে আদালত ‘হাইওয়েম্যান’ বা দস্যুর মতো আচরণ বলে বর্ণনা করেছে।” আমজনতার উদ্দেশে অরিত্রর বার্তা, “সতর্ক হোন এসব গুন্ডামি প্রতিরোধ করুন।”