সব্যসাচী ঘোষ, মালবাজার
গুজরাটের আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার (Plane crash in Ahmedabad) সময়ে যে ভাবে ফ্লাইটের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছিল, ঠিক সে ভাবেই ভোটের সময়ে বাড়ানো হলো দূরপাল্লার বাসের ভাড়া (Long-distance bus Fare)। আর এতেই সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের মধ্যে কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার কারণে বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভোটাররা।
রাজ্যে দুই দফায় ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট। ২৩ তারিখের আগের দু'–তিন দিন এবং ২৯ তারিখের আগের দু'–তিন দিন উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে যাওয়ার কিংবা উল্টো রুটের ট্রেনের টিকিট পাওয়া বর্তমানে দুঃসাধ্য। তৎকাল ছাড়া গতি নেই। সে ক্ষেত্রে ভাড়াও অনেক বেড়ে যায়। তার উপরে টিকিট মিলবে কি না তার কোনও গ্যারান্টি নেই। এ দিকে সবার পক্ষে বাগডোগরা (Bagdogra) থেকে বিমানে কলকাতায় যাওয়া সম্ভব নয়। অগত্যা একমাত্র ভরসা দূরপাল্লার বাস। আর এই সুযোগে দূরপাল্লার বাস মালিকরা 'ঝোপ বুঝে কোপ মারতে' চাইছেন বলে অভিযোগ।
উত্তরবঙ্গের সব আসন এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি আসনে ২৩ এপ্রিল ভোট। শিলিগুড়ির বাবুপাড়ার বাসিন্দা রমাপদ দাস হাওড়ার ধূলাগড়ে একটি কারখানায় কাজ করেন। ভোট দিতে শিলিগুড়িতে (Siliguri) ফিরবেন বলে ট্রেনের টিকিট খুঁজছিলেন। সর্বত্র 'ওয়েটিং' থাকায় তিনি বাসের খোঁজ করেন। রমাপদ ফোনে বলেন, 'স্লিপার তো ছেড়েই দিন, এসি চেয়ারকার বাসের ভাড়া যেখানে ৯০০–১,২০০ ছিল, তা এখন ২,৫০০–৩,০০০ টাকা।' একই ভাবে মালবাজারে কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে বসবাস করা নদিয়ার তেহট্ট বিধানসভার ভোটার বিপ্লব রায় ২৯ এপ্রিলের আগের দিনগুলোয় ট্রেনের টিকিট খুঁজে পাননি। শেষমেশ অনলাইনে বাসের সন্ধান করতে গিয়ে তাঁর চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। বিপ্লব বলেন, 'এখনও পর্যন্ত ট্রেন বা বাস, কোনওটারই টিকিট পাইনি। পরিবার নিয়ে যাব। তাই আমাদের স্লিপার ছাড়া চলবে না। এসি স্লিপার বাসের ভাড়া যেখানে ১,৫০০ টাকা ছিল, সেটাই এখন চার হাজারের নীচে দেখাচ্ছে না।'
একটি ভলভো বাস সংস্থার উত্তরবঙ্গের আধিকারিক বুম্বা মণ্ডল বলেন, 'যাত্রী পরিষেবা, বিপণন, বিজ্ঞাপন এগুলো দেখাই আমাদের দায়িত্ব। কোন সময়ে কী দরে টিকিট আসবে, সেটা আমরা নির্ধারণ করি না। তবে এটা সত্যিই যে, নির্বাচনের আশপাশে টিকিটের দাম অনেক বেশি।'