এই সময়: কলকাতা পুরসভার (Calcutta Municipality) নিয়ম অনুযায়ী রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাটকে কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করা যায় না। অথচ, দিনের পর দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাটকে ব্যবসার কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছে। পুর আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, রাজস্ব ফাঁকি (KMC TAX) দিতে শহর জুড়েই এই কাজ চলছে।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে বেহালার ১২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার রূপক গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তাঁর ওয়ার্ডে বহু জায়গায় রেসিডেন্সিয়াল আবাসনে ফ্লোর কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরসভা কোনও রাজস্ব পাচ্ছে না। অথচ কোনও ফ্ল্যাটকে কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করতে হলে পুরসভাকে জানাতে হয়। সেই বাবদ পুরসভাকে কমার্শিয়াল হারে করও দিতে হয়। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন,‘ কারা এই কাজ করছেন, তাঁদের তালিকা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে বড়বাজারের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তৃণমূলের ইলোরা সাহাও রেসিডেন্সিয়াল বাড়িকে কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে পুর অধিবেশনে সরব হয়ে ছিলেন। এ বার রূপক জানতে চান, কোন আইনে এক জন রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাট ওনার তাঁর ফ্ল্যাটকে কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করতে পারেন তা স্পষ্ট করে জানানো হোক। শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক কাউন্সিলার জানান, রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাটকে কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহারের প্রবণতা কলকাতার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা। এর ফলে পুরসভার অনেক রাজস্বের ক্ষতি হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই প্রবণতা বন্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
বসত বাড়িকে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে হলে সবার আগে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকের তরফে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) জমা দিতে হয়। তারপরে সেই এনওসি–র প্রতিলিপি জমা দিতে হয় ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন জানানোর সময়। ফিরহাদের কথায়, ‘কী করে এমন হচ্ছে তার জন্য সংশ্লিষ্ট তালিকা যাচাই করা হবে। কেউ যদি আইন ভাঙেন, তবে অশ্যই সেই ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ যদিও প্রশ্ন উঠছে, কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে যদি সবার সামনে রমরমিয়ে বসতবাড়িতে বেআইনি ভাবে ব্যবসার কাজ চলে, তবে তা পুরসভা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন। নাগরিকদের একাংশের বক্তব্য, প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতিকদের একাংশের মদতেই পুরসভার অনুমতি না–নিয়ে এই ধরনের ব্যবসা চালানোর সাহস পাচ্ছে কিছু মানুষ।