কমিশনের চিঠিতে পদ্মছাপ! ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার (ECI) বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির সিলমোহর জ্বলজ্বল করছে। এই ঘটনায় কমিশনকে এক হাত নিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে অভিষেক লেখেন, ‘এই কারণেই বিচারব্যবস্থার কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে খর্ব করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) নির্বাচনের প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে আর খুব বেশি দেরি নেই, যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজনীতির ছাপ থাকবে।’
SIR-র আবহে বার বারই তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির ‘B Team’-এর মতো আচরণ করছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের আগে কমিশনের এই চিঠি তুলে ধরে তৃণমূল কমিশনের নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও একাধিক বার প্রশ্ন তুলেছে এ রাজ্যের শাসকদল।
এরই মধ্যে ২০১৯ সালের একটি চিঠি সামনে এসেছে। দিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে সেই চিঠি যায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে। সেই চিঠির তলায় 'ভারতীয় জনতা পার্টি, কেরালা' লেখা, পদ্মফুলের সিল।
এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দাবি, এটি একেবারেই ‘Clerical Error’ বা ‘করণিক ত্রুটি’। কমিশনের ব্যাখ্যা, সম্প্রতি BJP-র কেরালা শাখার পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের প্রার্থীদের অপরাধমূলক রেকর্ড সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকার বিষয়ে জানতে চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনের সঙ্গে তারা পুরোনো নির্দেশিকার যে ফটোকপি জমা দিয়েছিল, তাতেই বিজেপির নিজস্ব সিল মারা ছিল। নজরদারির অভাবেই নাকি ভুল করে BJP-র সিল থাকা ওই কপিটিই অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে পাঠানো হয়।
পুরোনো চিঠি হলেও বিরোধীরা এই ইস্যুকে এত সহজে হালকা হতে দিতে নারাজ। কেরানির ভুল হলেও ঘটনাটা যে ঘটেছিল, কার্যত তা মেনে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সত্যিই যদি কেরানির ভুল হয়, কী ভাবে এমন ‘ভুল’ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।