• ঘি ব্যবসায়ী থেকে ধাবার মালিক প্রদীপ চৌধুরী
    এই সময় | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • বাসুদেব ভট্টাচার্য, ময়নাগুড়ি

    একটা নামহীন ধাবা। কিন্তু রসনা আর পরিষেবার গুণে এই ধাবার নাম ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের বাইরেও। ধাবাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। লোকমুখে নাম 'পাখাওয়ালা ধাবা'। কেউ কেউ বলেন ঝাঝাঙ্গি হোটেল। ধাবার মালিক প্রদীপ চৌধুরী ঘিয়ের ব্যবসা করতেন। ঘি পৌঁছে দিতে প্রায়ই তাঁকে ট্রাকে করে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে শিলিগুড়ি থেকে গুয়াহাটি (Siliguri to Guwahati) যেতে হতো। তখন ঝাঝাঙ্গি এলাকা ছিল বিভিন্ন গাছ-গাছালিতে ঘেরা। একবার গুয়াহাটি যাওয়ার সময়ে ভাদ্রের দুপুরে তিনি লক্ষ্য করেন, শিলিগুড়ি থেকে রওনা দেওয়া ট্রাকগুলি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ঝাঝাঙ্গিতে গাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছে। গরম হয়ে ওঠা ট্রাকের চাকা জিরোচ্ছে ছায়ায়। বিশ্রাম নিচ্ছেন চালকরা। তখনই ঝাঝাঙ্গির এই ফাঁকা জায়গায় খাবারের দোকান খোলার পরিকল্পনা করেন প্রদীপ।

    দেড় বিঘা জমি কিনে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দরমার বেড়া আর খড়ের ছাউনি দিয়ে ঘর তৈরি করেন। চালু হয় ধাবা। তার নাম ঠিক করে উঠতে পারেননি। অন্যান্য ধাবায় তখন পাখা ছিল না। এই হোটেলে খদ্দেরদের মাথার উপরে বনবন করে ঘুরত ফ্যান। তাই ট্রাক চালকদের মুখে ধাবার নাম হয়ে যায় 'পাখাওয়ালা ধাবা'। এই ধাবায় মেনু কিন্তু পুরোপুরি নিরামিষ। মাছ, মাংস কিংবা কোনও নেশার সামগ্রী পাওয়া যায় না। সাড়ে চার দশক পুরোনো ধাবার ঘি, তড়কা আর রাবড়ির স্বাদ অতুলনীয়। মেনু তালিকায় এ ছাড়াও রয়েছে চা, রুটি, ভাত, ডিম, ক্ষীরের পেঁড়া, লাড্ডু-সহ হরেক রকমের আচার। গরম খাবার পরিবেশনের জন্য ধাবার উনুনের বিশ্রাম নেই। দিনরাত জ্বলছেই। খাবারের মান বাড়াতে ধাবার কর্মীরাই দেশি ঘি তৈরি করেন।

    সেই ঘিয়ের গন্ধে ম-ম করে চারপাশ। রাতে যখন সবাই ঘুমোয়, পাঙ্খাওয়ালা ধাবা ব্যস্ততায় জেগে ওঠে। দিন-রাতে এই ধাবায় প্রায় ৫০ জন কর্মী বিভিন্ন শিফটে পরিষেবা দেন। এখানে রয়েছে অনেকগুলি শৌচাগার, স্নানের জন্য রয়েছে একাধিক সুবিশাল চৌবাচ্চা। ট্রাক চালকদের ঘুমোনোর জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এ ছাড়াও ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে। আগে এই ধাবায় ভিন রাজ্যের ট্রাক চালকদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এখন জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা সব ধরনের মানুষই খেতে আসেন। এই ধাবাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরও প্রায় শতাধিক দোকান। পান, সিগারেটের দোকান যেমন রয়েছে, গড়ে উঠেছে গাড়ি-টায়ার মেরামতের গ্যারাজ, মিউজিক সিস্টেমের দোকান। ধাবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সারা রাত খোলা থাকে এই দোকানগুলিও। প্রদীপ চৌধুরী বলেন, 'নির্ভেজাল ও সুস্বাদু খাবার পরিবেশন যেমন আমাদের লক্ষ্য, একই রকম ভাবে ধাবায় আসা মানুষদের অন্যান্য পরিষেবাও আমরা দিতে চাই। খাবারের গুণমান বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আমরা মেনু তালিকা লম্বা করিনি। তাতেই মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি যথেষ্ট।'

  • Link to this news (এই সময়)