আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থানার মেনা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। অভিযোগ, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে স্বামীকে খুন করেছেন স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিক।
ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী অনিমা দাস এবং তাঁর প্রেমিক গোবিন্দ হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তি এলাকায় বিজেপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা চরমে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোর দাস (৩৯)-এর স্ত্রী অনিমা দাসের সঙ্গে পাশের বাড়ির বাসিন্দা গোবিন্দ হালদারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক নিয়েই পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত বলে জানা যায়। অভিযোগ, সেই সম্পর্কের জেরেই কিশোর দাসকে পথের কাঁটা হিসেবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার রাতে ফোন করে কিশোর দাসকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কিছুক্ষণ পর এলাকাবাসীরা একটি ফাঁকা জায়গায় তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হয় কিশোরের দেহ। যা দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়দিঘি থানার পুলিশ।
পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার প্রেমিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই খুনটি করা হয়েছে। এর পিছনে পরকীয়ার সম্পর্কই মূল কারণ হতে পারে।
যদিও অভিযুক্ত অনিমা দাস তার বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। তবে পুলিশের জেরায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, মৃতের পরিবারের তরফে কড়া শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। কিশোর দাসের ভাই জানান, ‘সোমবার পাড়ায় কালীপুজো ছিল। বিসর্জন দেখে বাড়ি ফেরার সময় দাদার সঙ্গে কথা হয়।
কিছুক্ষণ পরই মা-বাবা এসে জানায় দাদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং পরে দাদার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করি। আমাদের দৃঢ় সন্দেহ, দাদার স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকই এই নৃশংস খুন করেছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা। পাশাপাশি খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।