• কমিশনের চিঠিতে বিজেপি স্ট্যাপ নিয়ে কটাক্ষ মমতার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • মমতা আরও অভিযোগ করেন, এই চিঠি শুধু কেরলের জন্য নয়, বরং সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য বলে উল্লেখ রয়েছে। ছ’বছর আগের ওই ঘটনাকে ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ বলে সাফাই দিয়েছে কমিশন। ফলে এটিকে শুধুমাত্র ‘ক্লারিক্যাল মিসটেক’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তাঁর মত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি আদৌ ভুল, নাকি এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, নির্বাচন কমিশনের একপেশে ভূমিকার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

    ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। সম্প্রতি কেরলের সিপিএম একটি পুরনো চিঠি প্রকাশ্যে এনেছে। যেখানে বিজেপির প্রতীক-সহ সিলমোহর রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে কমিশন ও বিজেপির মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছিল, এই চিঠি সেই অভিযোগকে আরও জোরদার করল বলে মত একাংশের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন।

    কমিশনকে এক হাত নিয়ে অভিষেক মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই কারণেই বিচারব্যবস্থার কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে খর্ব করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে আর খুব বেশি দেরি নেই, যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজনীতির ছাপ থাকবে।’

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে সাধুবাদ, কারণ আমরা সবাই যা আগে থেকেই জানতাম, তা তারা অবশেষে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশন অবশেষে বিজেপির সিলমোহরযুক্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করার সাহস দেখিয়েছে। সাবাশ! গণতন্ত্র জিন্দাবাদ!’

    মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দরে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির প্রভাবেই কাজ করছে। তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রশাসনিক বদল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি মাঝরাতে ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এতে স্বচ্ছতার অভাব থাকতে পারে এবং একতরফাভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)