• অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য ৬ দফা নির্দেশিকা নবান্নর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • এই নির্দেশিকায় মূলত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, হিংসামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা— ভোট চলাকালীন যে কোনও ধরনের হিংসা কঠোরভাবে দমন করতে প্রশাসন প্রস্তুত থাকবে। দ্বিতীয়ত, ভোটারদের ভয় দেখানো রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হবে, যাতে কেউ চাপ সৃষ্টি করতে না পারে।

    তৃতীয় নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ টাকা, উপঢৌকন বা অন্য কিছুর লোভ দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চতুর্থত, ছাপ্পা ভোট বা জাল ভোট রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। পঞ্চমত, বুথ দখল বা বুথ জ্যামিংয়ের মতো বেআইনি কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ষষ্ঠ নির্দেশে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভোটারদের অবাধ যাতায়াতে। কোনওভাবেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে বাধা দেওয়া যাবে না। ‘সোর্স জ্যামিং’ বা বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    পাশাপাশি, সরকারি কর্মীদের ভূমিকাও কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। আদর্শ আচরণবিধি যাতে কোনওভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে সব স্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    নবান্নর নির্দেশ অনুযায়ী, এই নির্দেশিকা রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে কিনা, তার প্রমাণ হিসেবে আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে কনফার্মেশন রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রশাসনের এই আগাম তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গত কয়েক বছরের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই— প্রতিটি ভোটার যেন নির্ভয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)