• ভোটের বাজারেও সংস্কৃতির জয়! আদিবাসীদের আর্জিতে দেওয়ালে রাজনীতি নয়, শিল্পের রং
    প্রতিদিন | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ভোট মানেই দেওয়ালজুড়ে রঙের লড়াই। নানা প্রতীক, স্লোগান আর রাজনৈতিক বার্তায় ঢেকে যাওয়া গ্রামের চেহারা। কিন্তু সেই চেনা ছবি সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য। ভোট এলেও দেওয়ালে নয় রাজনীতি। শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরিতে সংস্কৃতির জয়। একাধিক আদিবাসী গ্রামে নিষিদ্ধ দেওয়াল লিখন। বাঁচছে ঐতিহ্যের রঙ।

    রাজনীতির রঙ নয়। দেওয়ালে ফুটছে সংস্কৃতির গল্প। সংস্কৃতি রক্ষায় একজোট গ্রাম। বন্ধ সব রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখন। ভোট যুদ্ধে পোস্টার-ব্যানারে না। শিল্পেই সাজছে আদিবাসী গ্রামগুলি। গণতন্ত্র আছে। কিন্তু দেওয়ালে নেই কোনও রাজনীতির ছাপ। শান্তিনিকেতন সংলগ্ন সোনাঝুরি এলাকায় আদিবাসী গ্রামগুলির দেওয়ালে দখল করে না রাজনীতি। বরং টিকে থাকে মাটির গন্ধমাখা শিল্প ও সংস্কৃতির নিজস্ব ভাষা। বল্লভপুরডাঙা, সরকারডাঙা, খেলেডাঙা, সরপুকুরডাঙা সহ একাধিক গ্রামগুলিতে মাটির বাড়ির দেওয়ালে যেন জীবন্ত ক্যানভাস। কোথাও ফুল, কোথাও পাখি, কোথাও বা বনজ জীবনের রূপকথা ফুটে ওঠে রঙে ও রেখায়।

    প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দেওয়ালচিত্র শুধু সাজসজ্জা নয়, বরং তাদের পরিচয়, ইতিহাস, জীবনদর্শনের অংশ। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সেই দেওয়ালকে রাজনৈতিক বার্তার বাহক হতে দিতে নারাজ গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের দাবি, ভোট আসুক, কিন্তু বদলাবে না গ্রামের দেওয়ালের পরিচয়। ভোট আসবে যাবে, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি যদি একবার হারিয়ে যায় তাই দেওয়ালে নেই কোনও রাজনৈতিক প্রতীক। আছে ইতিহাস, শিল্পের ক্যানভাস। এই উপলব্ধিই যেন তাঁদের একত্র করেছে। ফলে গ্রামের মোড়লেরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলি চাইলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করবে। মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। কিন্তু গ্রামের দেওয়ালে কোনও রঙ লাগানো যাবে না।

    এক কথায় শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলের পাশে প্রায় একাধিক গ্রামের সরল জীবনযাপন, প্রকৃতিনির্ভর সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চার স্বাভাবিক প্রকাশ এই এলাকাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। পর্যটকরাও এখানে এসে শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষের জীবনধারার সঙ্গে মিশে থাকা শিল্পকে কাছ থেকে দেখেন। বহু চলচ্চিত্রের শুটিংও হয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে।  এই প্রেক্ষাপটে ভোটের দেওয়াল লিখন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যেন এক নীরব প্রতিবাদ। সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তায় অটুট গ্রামবাসীরা।

    তবে রাজনৈতিক দলগুলিও এই অবস্থানকে তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে। বল্লভপুরডাঙার বাসিন্দা বাসন্তী টুডু ও বাহমনি হেমরমদের কথায়, “আমরা রাজনীতি বুঝি, ভোট দিই। কিন্তু আমাদের দেওয়াল আমাদের গল্প বলে। ওটা বদলে যেতে দিতে চাই না।” তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ জানান, তাঁরা দেওয়াল গুলিকে সাজিয়ে রাখেন তাই কোনভাবেই দেওয়ারগুলি যাতে ভোটের আগে রাজনীতি না লাগে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দিলীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘‘আদিবাসী এলাকায় কোনোভাবেই দেওয়াল গুলিতে রং না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
  • Link to this news (প্রতিদিন)