তালিকা প্রকাশের পরেই প্রার্থী বদল চেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি নেতাকর্মীদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। যার আঁচ আছড়ে পড়ে সল্টলেকর বিজেপি দপ্তরেও। এর মধ্যেই আজ, মঙ্গলবার বঙ্গে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। রাজ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি ‘বাজিয়ে দেখতে’ ম্যারাথন বৈঠক করছেন তিনি। এর মধ্যেই নতুন করে ফের বিক্ষোভে বিজেপির নেতাকর্মীরা। বলাগড় এবং বাদুড়িয়া-সহ একাধিক আসনে প্রার্থী বদল চেয়ে সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে জোর বিক্ষোভ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যখন শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বৈঠক করছেন, ঠিক সেই সময় বিজেপি কর্মীদের এই বিক্ষোভ ঘিরে রীতিমতো অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।
বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিজেপি প্রার্থী করেছে সুমনা হালদারকে। অন্যদিকে হুগলির বলাগড়ে বিজেপির প্রার্থী সুমনা সরকার। দুই প্রার্থীর নাম সামনে আসতেই নেতাকর্মীদের অসন্তোষ সামনে চলে আসে। কখনও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, তো আবার কখনও বিজেপি দপ্তরে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে আসে। এর মধ্যেই এদিন কর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিগত পঞ্চায়েত ভোটের তৃণমূলে ছিলেন সুমনা হালদার। এমনকী সেই সময় তাঁর নির্দেশেই বিজেপি নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফলে তাঁকে অবিলম্বে বদলের দাবি জানান তাঁরা। শুধু তাই নয়, সুমনা হালদারকেও প্রার্থী করা নিয়ে এদিন ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। এছাড়াও বসিরহাট, মিনাখাঁ-সহ একাধিক বিধানসভা আসনে প্রার্থী বদলের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত রবিবারই হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ সামনে আসে। বহিরাগত রেখা পাত্র নন, টিকিট দিতে হবে ভূমিপুত্রকেই। এই দাবিতে কলকাতার সল্টেলেকে বিজেপির কার্যালয়ে হাজির হন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের নেতা-কর্মীরা। রীতিমতো বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। জানা গিয়েছে, আজ মঙ্গলবারও একই দাবিতে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতাকর্মীরা।
যদিও গত রবিবারের বিক্ষোভের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বেলেঘাটা আসনের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। সেই ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আগে ঘর সামলা, পরে ভাববি বাংলা। বিজেপির মিডিয়া-মেড বিপ্লবী রেখা পাত্রর প্রার্থীপদের বিরুদ্ধে বিজেপির পার্টি অফিসে বিজেপি কর্মীদেরই বিক্ষোভ।’ যদিও এই বিক্ষোভ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি বঙ্গ বিজেপি।