• ‘ভারতের পর্যাপ্ত অশোধিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে’, রাজ্যসভার ভাষণে দাবি মোদির
    প্রতিদিন | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে তালা পড়েছে তৈল ধমনী হরমুজে। যার জেরে বিশ্বের বাকি দেশের পাশাপাশি জ্বালানি সংকটে ভারতও। সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে কার্যত গতকালকের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। যদিও সংকটের কথা জানানোর পাশাপাশি মোদির দাবি, ভারতের পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে। পাশাপাশি তেল আমদানিকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটাই আত্মনির্ভর হওয়ার উপযুক্ত সময়।”

    সোমবার মোদি জানান, “আমাদের প্রয়োজনের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের আমদানি হরমুজ থেকেই হয়। যুদ্ধের জেরে সেই হরমুজ এখন ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে করে পেট্রোল, ডিজেল গ্যাসের সাপ্লাই যেন প্রভাবিত না হয়।” মঙ্গলবার রাজ্যসভার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে। এই জাহাজগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। যা ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ।” পাশাপাশি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১ কোটি প্রবাসী ভারতীয়র নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। জ্বালানি সংকট কাটাতে নিয়মিত পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।

    রাজ্যসভার বক্তব্যে দেশবাসীকে মোদি আশ্বস্ত করেন, অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থা রয়েছে ভারতের। পাশাপশি জ্বালানি আমদানিকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার জ্বালানির কোনও একটিমাত্র উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা চায় না। এছাড়াও দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি)-এর ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগে ভারত ২৭টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও এলপিজি আমদানি করে জ্বালানির চাহিদা মেটাত। বর্তমানে তা বাড়িয়ে দেশটি ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। রাজ্যসভার ভাষণে সংকটের কথা স্বীকার করে মোদি বলেন, এটাই দেশবাসীর একজোট হওয়ার সময়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)