মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। আঁচ এসে পড়েছে জনজীবনে। এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে গ্যাসের দাম। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কালোবাজারি। প্যানিক বুকিং রুখতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এলপিজি সিলিন্ডারে চেপেছে কড়া শর্ত। যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছে বিপিসিএল।
মঙ্গলবার আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যে জ্বালানি তেলের জোগান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল বা গ্যাস মজুত করার কোনও প্রয়োজন নেই।
বিপিসিএল-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তাদের যে বিশাল সরবরাহ নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখানে পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) পর্যাপ্ত ভাণ্ডার মজুত আছে। প্রতিটি রিটেইল আউটলেট বা পাম্প এবং ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে সরবরাহ প্রক্রিয়া মসৃণ রাখতে সংস্থা দায়বদ্ধ। উৎসবের মরশুম হোক বা সাধারণ সময়, সাধারণ মানুষের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
সংস্থার এক পদস্থ আধিকারিক জানান, সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনওরকম বিঘ্ন ঘটেনি। বরং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ফলে পাম্পে গিয়ে তেল না পাওয়া বা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। অনেক সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা হুজুগে পড়ে কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার ভয় থাকে। সেই কারণেই এদিন সংস্থার পক্ষ থেকে গ্রাহকদের শান্ত ও সচেতন থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকার অন্তর্ভুক্ত এই মহারত্ন সংস্থাটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিপণনকারী সংস্থা। মুম্বই, কোচি এবং বিনায় তাদের নিজস্ব শোধনাগার রয়েছে। সারা দেশে ২৩,৫০০টিরও বেশি ফুয়েল স্টেশন এবং ৬,২০০টির বেশি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের মাধ্যমে তারা পরিষেবা দেয়। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকেও নজর দিচ্ছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যেই ৬,৫০০টির বেশি পাম্পে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে বিপিসিএল। পশ্চিমবঙ্গেও তাদের পরিকাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে আগামী দিনেও জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি হবে না বলেই আশ্বস্ত করেছে এই সংস্থা।