পাথরপ্রতিমা (Patharpratima) থেকে ভোটপ্রচার শুরু করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃণমূল প্রার্থী সমীর জানার সমর্থনে সভা করেন মঙ্গলবার। সেখান থেকে অভিষেকের বার্তা, পাথরপ্রতিমা থেকে এ বার ভোটের ব্যবধান ৪০ হাজার করতে হবে। প্রথম প্রচার সভা থেকেই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন অভিষেক। মারাত্মক অভিযোগ তোলেন তিনি। তৃণমূলের BLA 2-দের কাছে দিল্লি থেকে ফোন আসছে, টাকার অফার দেওয়া হচ্ছে। অভিষেকের দাবি, তৃণমূল BLA 2-দের নামের যে তালিকা নির্বাচন কমিশনের অফিসে জমা দিয়েছিল, সেই তালিকাই এখন দিল্লির বিজেপি নেতাদের হাতে।
অভিষেক বলেন, ‘BLA 2-রা ফোনে বলছেন, দিল্লি থেকে বিজেপির ফোন আসছে। তৃণমূল নির্বাচন কমিশনকে যে লিস্ট দিয়েছে, তা চলে গিয়েছে বিজেপির হাতে। বিজেপির নেতারা দিল্লি থেকে ফোন করে বলছেন, আমাদের হয়ে কাজ করো, টাকা দেবো। আমি বলি, টাকা নিন। এই টাকা তো বাংলার প্রাপ্য আটকে রাখা টাকা। ওরা ১০ বললে দর কষাকষি করে ৫০ চাইবেন। পদ্ম থেকে টাকা নেবেন আর জোড়াফুলের হয়ে ভোট করবেন।’
গত সপ্তাহেই ভোটের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নাম, ‘বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’। এ দিন সেই ইস্তেহারের কথা তুলে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেবে। আগামী পাঁচ বছরে সকলের মাথার উপরে পাকা ছাদ হবে, কেন্দ্র টাকা না দিলেও প্রত্যেক বাড়িতে পৌঁছবে নলবাহিত বিশুদ্ধ জল, দুয়ারে চিকিৎসা শুরু হবে।
অভিষেক বলেন, ‘আমরা ডায়মন্ড হারবারে যেমন সেবাশ্রয়ের ক্যাম্প করেছিলাম, প্রত্যেকটা ব্লকে, টাউনে সরকার প্রতি বছর ক্যাম্প করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে চিকিৎসার সুব্যবস্থা পৌঁছে দেবে। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পরের বছর থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার আলাদা কৃষি বাজেট হবে বাংলায়। যা ভারতে কেউ করতে পারেনি।’
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপিকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘বিজেপির কিছু নেতা বলছেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়ে দেবেন। কিছু নেতা আবার বলছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবেন। আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের কথা বলছেন, তাঁদের বিজেপি বহিষ্কার করুক। আর যাঁরা বলছেন টাকা বাড়াবেন, নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহকে বলুন, যে ১৫ রাজ্যে বিজেপির সরকার আছে, সেখানে আগে এটা কার্যকর করুক। বাংলায় আমরা যে ভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিই, পরিবারে পাঁচ জন মহিলা থাকলে, পাঁচ জনই সুবিধা পান, সেটা করে দেখাক। বিজেপি তা করতে পারলে, তৃণমূল বিধানসভায় লড়বে না। প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করব। চ্যালেঞ্জ ছুডে় দিলাম।’
গত কয়েক দিনে প্রচারে বেরিয়ে কোনও প্রার্থীকে দেখা গিয়েছে দাড়ি কাটতে, কাউকে দেখা গিয়েছে ভোটারের ঘরের কাজ করে দিতে। এ দিন তা নিয়েও খোঁচা দেন অভিষেক। বলেন, ‘অমিত শাহ রায়দিঘিতে এসে হম্বিতম্বি করে গিয়েছিলেন। আমি যে প্রশ্নগুলো করলাম, উত্তর দিতে পারেনি। দেখছি বিজেপির প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ জল তুলে দিচ্ছেন, কেউ মাথা টিপে দিচ্ছেন। এদের এক মাস পরে দেখতে পাবেন না। এরা এলে ঘরদোর পরিষ্কার করাবেন। ভাইয়েরা বলবেন, হাত পা টিপে দাও। বাড়ির যত কাজ এদের দিয়ে করিয়ে নিন। চুল কাটা, দাড়ি কাটা, ঘরদোর পরিষ্কার এখন অনেক কিছু করবে। ৪ তারিখের পরে আর টিকি খুঁজে পাবেন না।’
এ দিন SIR ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে এক হাত নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘আমরা যত দিন আছি, কারও ভোটাধিকার যাবে না। কারও ভোটাধিকার অনৈতিক ভাবে কেড়ে নিলে তার জন্য ট্রাইব্যুনাল অ্যাপিলেট হয়েছে, সেখানে আবেদন করবেন। আমরা দলের কর্মীরা দলীয় ভাবে সহযোগিতা করব। আমরা আছি। কেউ ভয় পাবেন না।’
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা থেকে প্রচারসভা শুরু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এ জেলারই ডায়মন্ড হারবারের মাটি থেকে সভা শেষ করবেন তিনি।