মুম্বই, ২৪ মার্চ: ইঞ্জেকশনে ভীতি তাই পথ কুকুরে আঁচড় দেওয়ার পরও নেয়নি জলাতঙ্কের টিকা। আর তার জেরেই প্রাণ গেল এক নাবালিকার। মুম্বইয়ের বাসিন্দা কাশিশ সাহানি (৯) চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী। ছয় মাস আগে তাঁর দাদুর সঙ্গে রাস্তায় হাঁটতে বেড়িয়েছিল। সেই সময় একটি পথ কুকুর আচমকাই আঁচড় দেয় কাশিশকে। তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কাশিশ তাঁর ভয়ের কারণে ইঞ্জেকশন নিতে বেঁকে বসে কাশিশ। কোনও রকম করেও ইঞ্জেকশন দিতে পারেননি চিকিত্সকরা। ফলে একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরাও। কিছুদিন পরেই সুস্থ হয়ে ওঠে কাশিশ। যথারীতি স্বাভাবিক ছন্দেই ফিরে আসে সে। কার্যত এক সময় কুকুরের আঁচড় দেওয়া ও তার জন্য ইঞ্জেকশন না নেওয়া সমস্ত বিষয়টিই এড়িয়ে যায় পরিবার।
কেটে যায় ছয়টি বছর। হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়ে কাশিশ। বন্ধ হয়ে যায় খাওয়া-দাওয়া। চোখ লাল হয়ে যায়। তাছাড়াও নানান সমস্যায় ভুগতে থাকে সে। যখন অবস্থা খুবই গুরুতর হয়ে পড়ে তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বইয়ের একটি নামি হাসপাতালে। সেখানে আরও স্বাস্থ্যের অবনতি হয় তাঁর। পরে সোমবার মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে কাশিশ সাহানি। তাঁর মৃত্যুর পর পৌরসভার তরফে পরিবার এবং তার সংস্পর্শে আসা সবারই ডাক্তারি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিত্সকেরা সাফ জানিয়েদেন কোনও কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড় দিলে অবশ্যই ইঞ্জেকশন নেওয়া জরুরি। কাশিশের আকস্মিক মৃত্যুতে কার্যত ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার।