সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই ঘুরছে পোস্ট— ‘স্কোয়াল ফ্রন্ট শম্পা আসছে’, ‘স্কোয়াল ফ্রন্ট মেঘা আসছে’। বাস্তবেই যাঁদের নাম শম্পা কিংবা মেঘা, তাঁদের চ্যাটবক্স ভরছে সেই পোস্টে। যদিও এমন কোনও স্কোয়াল ফ্রন্টের পূর্বাভাস এখনও আবহাওয়া দপ্তর দেয়নি। আর স্কোয়াল ফ্রন্টের এমন নামকরণও একেবারেই কাল্পনিক। তবে চৈত্রের বাংলায় হাওয়া যে ঘুরে গিয়েছে, তা মানছেন সকলেই। এ হাওয়া ভোটের হাওয়া নয়, একেবারেই প্রাকৃতিক। চৈত্রের রাতেও বাইকে চাপলে জ্যাকেট-মাফলার লাগছে। একটু রাত করে বেরোলে স্টোল, হালকা চাদরও নিতে হচ্ছে। ফ্যান ঘুরছে বটে, তবে গায়ে জড়াতে হচ্ছে বহু পুরোনো ফিনফিনে কাঁথাটাও। কিন্তু আবহাওয়ার খেলাটা ঘোরাচ্ছে কে?
মঙ্গলবার দিনের তাপমাত্রা ৩১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। স্বাভাবিকের থেকে যা প্রায় তিন ডিগ্রি নীচে। সোমবারের রাতের তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে যা প্রায় এক ডিগ্রি নীচে। এই মুহূর্তে তিনটি ওয়েদার সিস্টেম কাজ করছে। দেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এখনও দুর্বল হয়নি। সঙ্গে রয়েছে ঘূর্ণাবর্ত।
ঘূর্ণাবর্ত এবং অক্ষরেখার যুগলবন্দিতে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প দেশের মূল ভূখণ্ডে ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে বৃষ্টি হচ্ছে বাংলার উত্তর থেকে দক্ষিণে। শুকনো হাওয়া তৈরিই হচ্ছে না। ঠান্ডার আমেজ থাকছে জেলায় জেলায়।
শুক্রবার থেকে আবারও বৃষ্টি নামবে। দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি হবে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই জেলাগুলিতে।
বৃষ্টি হবে কলকাতা–সহ রাজ্যের দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও। তবে তা বিক্ষিপ্ত ভাবে হবে। বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। শনি ও রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে এমন পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।