• বিজেপিতে দুই রাজবংশী নেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
    আজকাল | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপিতে যোগ দিলেন কোচবিহারের রাজবংশী সমাজের অন্যতম নেতা বংশীবদন বর্মন। তাঁর পাশাপাশি এদিন বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও এক রাজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায় এবং মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দলীয় মুখপাত্র আইনজীবী দেবজিৎ সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকালে বিজেপির বিধাননগর দপ্তরে এসে তাঁরা দলে যোগ দিলেন। এদিন বিজেপিতে যোগ দিলেন অর্ঘ্য রায়ের বাবা প্রাক্তন সাংসদ অমর রায় প্রধানও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই সময় উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন। সেই সময়ই এই যোগদান পর্ব।

    গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের মুখ বংশীবদন বর্মন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলকে সমর্থন করতেন ‘দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’-এর এই নেতা। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে বংশীবদন বলেন, “রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা ভাষা রয়েছে। এতদিন ধরে সেটা পালন করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের রাজবংশী সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে। আমি আবেদন করব যাতে রাজবংশীর সম্প্রদায়ের কথা ভাবা হয়। তাই তাদের সমর্থন জানাচ্ছি।”

    প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে সমঝোতা করে যে দল চলছে তাদের সঙ্গে থাকতে পারলাম না বলে এই রায়ের সঙ্গে যুক্ত হলাম। এভাবে দুর্নীতি করে কোনও ভাবেই কাজ করা সম্ভব নয়। মানুষকে জবাব দিতে হয়। এভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই বিজেপির হয়ে কাজ করব। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গর্ববোধ করছি।”

    যোগদান পর্বে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক বলেন, “এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মমতা বনাম জনতা। তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই মা-মাটি-মানুষের বিরুদ্ধে। মানুষের লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই সরকারকে বিদায় দেবে গণদেবতা ঠিক করে নিয়েছে। বিদায় হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য আলুচাষী আত্মহত্যা করছেন। তৃণমূল মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।”

    নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন আধিকারিক বদলি প্রসঙ্গে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে এক হাত নিয়েছিলেন মমতা। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “উনি সকল সংবিধানিক বডিকে বিজেপির লোক দেখছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভূত দেখছেন। সব উত্তর দেবে মানুষ। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের এ রাজ্যে রাখার জন্যই এসব কথা তিনি বলছেন।”

    রাজ্য বিজেপির দপ্তরে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এই দৃশ্যই বলছে যে আগামী নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভ করবে।”
  • Link to this news (আজকাল)