সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: চেষ্টা চালিয়েও বিরোধীদের চাপে আপাতত ‘রাজনীতি’ করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল নরেন্দ্র মোদির। লোকসভা এবং বিধানসভায় অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ মহিলাদের আসন সংরক্ষণ কার্যকর করতে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগেই সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল আনার উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু পাঁচ রাজ্যের ভোটের জন্যই তা ভেস্তে গেল। এই সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে যে সংখ্যক সাংসদের সম্মতি প্রয়োজন, তা মিলছে না।
মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধন করতে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে হবে। তার জন্য ‘স্পেশাল মেজোরিটি’ দরকার। অর্থাৎ লোকসভার মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবং সভায় সেই সময় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সম্মতি। অঙ্কের হিসেবে যা কমপক্ষে ৩৬২। ভোট প্রচারে রাজ্যসফরে ব্যস্ত থাকায় সিংহভাগই সাংসদই সংসদে আসছেন না। তাই আপাতত আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলা বাজেট অধিবেশনে বিলটি আনা হবে না বলেই জানা গিয়েছে।
লোকসভা এবং বিধানসভার কোন আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ হবে, তা ঠিক করতে উঠতে পারছে না কেন্দ্র। লটারি করে বাছার কথা ভাবা হয়েছে। লটারিতে যদি জোড় নাম্বার ওঠে, তাহলে যে কেন্দ্রগুলির নাম্বার জোড় সংখ্যার, সেইগুলি হবে মহিলা সংরক্ষিত। একইভাবে বিজোড় হলে সেগুলি। তফসিলি জাতি/উপজাতিদের জন্য যে আসন ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত, তার মধ্যে থেকেই হবে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষিত।
তবে যেহেতু মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করতে জুন মাসেই ডিলিমিটেশন কমিশন গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, তাই মে মাসে দুদিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধনী বিল আনার পরিকল্পনা চলছে। যেহেতু চলতি বাজেট অধিবেশনে ওই সংবিধান সংশোধন বিল আসছে না, তাই আগামী শনি-রবিবার সংসদ বসবে না। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বুধবার জানিয়েছেন, ২৮-২৯ মার্চ সংসদের অধিবেশন বসবে না।
মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিলে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে কথা বলতে উদগ্রীব। কিন্তু সাড়া মিলছে না। তৃণমূল, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকের মতো অন্যতম প্রধান বিরোধী দলের কেউ অমিত শাহর ডাকে সাড়া দেননি। স্রেফ বিজেডি, এনসিপি (এসপি), শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) এবং ওয়াইএসআরসিপি গিয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর লোকসভায় পাশ হয়েছিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম।’ পক্ষে ভোট পড়েছিল ৪৫৪। বিপক্ষে দুই। আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং তাঁর দল এআইএমআইএমের সাংসদ ইমজিয়াজ জালিল বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সেই কারণেই কি ওয়েইসিকে এবার এখন থেকেই বোঝাচ্ছেন অমিত শাহ? নতুন সেন্সাস এবং এলাকা পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) উপর নয়। ২০১১ সালের সেন্সাসকে ভিত্তি করেই এখন মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে চান মোদি। আর সরকারের এই ঢোঁক গেলার খবর জেনেই কংগ্রেসের মুখ্য মুখপাত্র তথা জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। বলেছেন, ‘ইউ টার্ন ওস্তাদ!’ ২০২৩ সালে বিল পাশের সময়ই বিরোধীরা দাবি করেছিল অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। কিন্তু সরকার জানিয়েছিল, কার্যকর হবে ২০২৯ সাল থেকে। কিন্তু এখন বিরোধীদের কথাতেই ফিরতে হচ্ছে মোদিকে!