নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পুরুষের তুলনায় মহিলাদের সঞ্চয় প্রবণতা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে । মহিলাদের সঞ্চয় ও সম্পদ বৃদ্ধি প্রবণতা সংক্রান্ত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ভারত এবং আধা শহর এলাকায় মহিলাদের মধ্যে সঞ্চয় করার প্রবণতা বিগত ছয় বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ওয়েলথ সংস্থার সমীক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণভাবে ধরা পড়েছে যে, দেশের ৭০ শতাংশ মহিলা চিরাচরিত মাধ্যম অর্থাৎ ডাকঘর অথবা ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের মাধ্যমে সঞ্চয় করে। আর মিউচুয়াল ফান্ড অথবা এসআইপি ধাঁচের আধুনিক সঞ্চয়ের দিকে যাঁরা ঝুঁকছে, তাদের বয়স ৩৫ বছরের কম। অর্থাৎ যে মহিলারা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে এবং বয়স ৩৫ বছরের কম, তারা বেসরকারি সঞ্চয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তুলনায় পরিণতবয়স্ক মহিলারা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ঝুঁকিহীন ফিক্সড ডিপোজিট, মান্থলি ইনকাম স্কিম ইত্যাদি সঞ্চয়ে যাচ্ছে। সঞ্চয়ের দুরকম ধারা আছে। কম বয়সিদের সঞ্চয়ের চালিকাশক্তি হল লগ্নি। দ্রুত সেই টাকা যাতে বৃদ্ধি পায়, সেটাই লক্ষ্য। আর তুলনায় ৩৫ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি। সমীক্ষায় লক্ষ্য করা গিয়েছে, গ্রামীণ মহিলাদের সঞ্চয়ের প্রবণতা বেশি। তাদের ক্রয়ক্ষমতা থাকলেও অধিক ভবিষ্যৎ চিন্তায় অর্থসাশ্রয় করে।
তুলনায় শহুরে মহিলাদের মধ্যে ক্রয় প্রবণতা বেশি। অন্যতম কারণ তাদের কাছে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ ও আকর্ষণ বেশি। সমীক্ষার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘হার ওয়েলথ, হার ওয়ে: আ স্টাডি অন হাউ উওম্যান সেভ অ্যান্ড ইনভেস্ট’। ছোট শহরের মহিলাদের মধ্যেও এসআইপি ও মিউচুয়াল ফান্ডের আগ্রহ বাড়ছে।
যদিও বড় শহরের তুলনায় ছোট শহর অথবা মফসসলের মহিলাদের মধ্যে সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে সোনা কেনার আগ্রহ বেশি। উল্লেখযোগ্য রিপোর্ট হল, শহর অথবা মফসসল— সর্বত্রই এখনও মহিলাদের মধ্যে পরিবারের মতামত নিয়ে তারপরই সঞ্চয় অথবা লগ্নির প্রবণতা বেশি। অর্থাৎ পুরুষদের মধ্যে যেমন একক সিদ্ধান্তে লগ্নি ও সঞ্চয় প্রবণতা বেশি, সেটি মহিলাদের মধ্যে কম। তারা আলোচনা করেই সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে পরিবারের পুরুষ সদস্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। ৫৭ শতাংশ মহিলাই দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় রেখে দেওয়ার পক্ষপাতী। অর্থাৎ খুব প্রয়োজন না পড়লে তারা সঞ্চয় থেকে টাকা প্রত্যাহারে ইচ্ছুক নয়।