তৃণমূল ছাড়লেন ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডি! পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য, সাঁওতালি সাহিত্যিক এ বার বিজেপিতে
আনন্দবাজার | ২৬ মার্চ ২০২৬
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য কলেন্দ্রনাথ মান্ডি বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির বিধাননগরের দফতরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে পদ্মশিবিরে শামিল হন।
সাঁওতালি সাহিত্যের পরিচিত নাম কলেন্দ্র ১৯৭৮ সাল থেকে কবিতা, গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধ রচনার কাজে যুক্ত। পাশাপাশি, সাঁওতালি ভাষাতত্ত্বের গবেষণার কাজও করেন তিনি। ডাইনিপ্রথার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধেও বহু বছর ধরে আন্দোলন করছেন কলেন্দ্র। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েতে নির্বাচনে বান্দোয়ান ব্লকের একটি আসন থেকে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার কলেন্দ্র জানান, তাঁর রচনা সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঝাড়গ্রাম সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
কলেন্দ্রের বিজেপিতে যোগদানের পরে সাংসদ জ্যোতির্ময় বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘কলেন্দ্রনাথ মান্ডি শুধু জঙ্গলমহলের অন্যতম নেতা নন, তিনি আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম মুখ। জঙ্গলমহলের জনজাতিগোষ্ঠীর কাছে তাঁর বিজেপিতে যোগদান একটি বিশেষ বার্তা। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে নতুন বার্তা। তৃণমূলের জমানায় আদিবাসী সম্প্রদায় অনুন্নয়ন ও বঞ্চনার শিকার। দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অবমাননা করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। বিধানসভা ভোটে এর প্রভাব পড়বেই।’’ প্রসঙ্গত, এর আগে কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা অজিত মাহাতো বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এ বারের ভোটে তাঁর পুত্র রাজেশ ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে প্রার্থী হয়েছেন। কুড়মি আন্দোলনের আর এক নেতা তথা অজিত-অনুগামী বিশ্বজিৎ মাহাতোকে পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা আসনে প্রার্থী করেছে বিজেপি।